Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

হার্টের চিকিৎসায় কোন কোন যন্ত্র লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছে?

আজ বিশ্ব হার্ট দিবস। চিকিৎসাক্ষেত্রে হার্টের রোগের একাধিক সমস্যার মুশকিল আসান হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। বাঁচিয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ।

হার্টের চিকিৎসায় কোন কোন যন্ত্র লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছে?
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ডাঃ বিশ্বজিৎ মজুমদার 

Advertisement

প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ, আর জি কর মেডিকেল কলেজ

আজ বিশ্ব হার্ট দিবস। চিকিৎসাক্ষেত্রে হার্টের রোগের একাধিক সমস্যার মুশকিল আসান হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। বাঁচিয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ। যেমন—
রোগ নির্ণয়…
১. ইকোকার্ডিওগ্রাফি: ১৯৫৩ সালে সুইডেনের চিকিৎসক ইঙ্গে এডলার ও পদার্থবিদ হেলমুট হার্টজ প্রথম হৃদযন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড ছবি রেকর্ড করেন। আজকের ইকোকার্ডিওগ্রাফি হৃদযন্ত্রের গঠন, ভালভ ও পাম্পিং ক্ষমতা দেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইকোতে ধরা না পড়া হৃদযন্ত্রের পেশির সূক্ষ্ম পরিবর্তন বোঝা যায় নতুন স্ট্রেন ইকোতে।
২. কার্ডিয়াক এমআরআই: ১৯৮০-এর দশকে ক্লিনিক্যাল কার্ডিয়াক এমআরআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়। হৃদপেশির ক্ষত, গঠন ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে এটি সাহায্য করে।
৩. সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি:
১৯৯০- এর দশকে সিটি প্রযুক্তির উন্নতি ঘটে। রোগীর শরীরে ক্যাথেটার না ঢুকিয়েই ব্লক থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসা বা স্টেন্টের প্রয়োজন হলে ইনভেসিভ অ্যাঞ্জিওগ্রাফির এখনও দরকার পড়ে। 
চিকিৎসায়…
৪. অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট: ১৯৭৭ সালে আন্দ্রেয়াস গ্রুয়েনৎসিগ প্রথম সফল করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করেন। পরে জুলিও পালমাজ ও রিচার্ড শ্যাটজ-এর মতো গবেষকদের হাত ধরে করোনারি স্টেন্টের ব্যবহার এগয়। এখন ড্রাগ ইলিউটিং স্টেন্টের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্টেন্ট ছাড়াই ধমনীতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতিও ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫. ট্যাভি: ২০০২ সালে ফ্রান্সে আলাঁ ক্রিবিয়ে ও তাঁর সহকর্মীরা প্রথম মানুষের শরীরে ট্যাভি পদ্ধতির ব্যবহার করেন। অর্টিক ভালভ সরু হয়ে গেলে ক্যাথেটারের মাধ্যমে নতুন ভালভ বসানো যায়। বিশেষ করে বয়স্ক বা অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি বেশি যেসব রোগীদের, তাঁদের চিকিৎসায় এটি বড়ো পরিবর্তন এনেছে।
৬. পেসমেকার, আইসিডি ও সিআরটি: ১৯৫৮ সালে রুনে এলমকভিস্ট ও শল্যচিকিৎসক ওকে সেনিং প্রথম সম্পূর্ণ ইমপ্ল্যান্টেবল পেসমেকার তৈরি করেন। হৃদস্পন্দন খুব ধীর হলে, পেসমেকার তা নিয়ন্ত্রণ করে। পরে লিডলেস পেসমেকার এসেছে। আবার বিপজ্জনক দ্রুত হৃদস্পন্দন থামাতে ১৯৮০ সালে মিশেল মিরোভস্কি ও তাঁর সহকর্মীদের তৈরি করেন আইসিডি। সেই বছরই প্রথম মানুষের শরীরে বসানো হয় সেটি। এছাড়াও হৃদরোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার হয় সিআরটি যন্ত্র। 
৭. ভ্যাড ও ইম্পেলা: ১৯৬০-এর দশকে ডমিঙ্গো লিওটা ও মাইকেল ডিবেকির কাজের মাধ্যমে ভেন্টিকুলার অ্যাসিস্ট ডিভাইস বা ভ্যাড-এর ব্যবহার শুরু হয়। দুর্বল হৃদযন্ত্রকে সাময়িকভাবে রক্ত পাম্প করতে সাহায্য করে এই যন্ত্র। ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতেও সাময়িকভাবে হার্টকে সাহায্য করে ইম্পেলা। প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৯৯ সালে। 
লিখেছেন শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ