


শ্রীকান্ত পড়্যা, দীঘা: ভোটে দলের হয়ে কাজ না করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দীঘায় কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে দু’ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বিজেপি বারান্দায় কেউটে সাপ ছেড়ে দিয়েছে। আগে সেই সাপ তাড়ান। তারপর ঝগড়া করবেন। প্রার্থী পছন্দ না হলেও প্রতীক দেখে দলের কাজ করুন। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে যেন একটাও জেতা আসন হাতছাড়া না হয়।’ একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসে এখন পদে থাকার একটাই মাপকাঠি, তা হল পারফরম্যান্স। আগামীদিনে কে কোন পদে বসবেন, তা ২০-২১ দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। কাঁথি উত্তর ও কাঁথি দক্ষিণ আসনে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।’
কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের অধীনে মোট আটটি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের ফলাফলে দেখা যায়, তৃণমূল চারটি ও বিজেপি চারটিতে জয়ী হয়। তৃণমূলের এমন ফলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছিল বলে মনে রাজনৈতিক মহল। এদিন প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। রামনগর, ভগবানপুর, খেজুরি, পটাশপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ কাঁথি আসনে কোথায় কী সমস্যা, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ উঠে আসে। কয়েকজন নেতাকে সতর্ক করা হয় বলে সূত্রের খবর। লিড দিলে পুরস্কার মিলবে বলেও পটাশপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্বপন মাইতিকে জানানো হয়। খেজুরির বিধানসভার প্রার্থী রবীন মণ্ডলকে ভগবানপুর নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে শুধু খেজুরি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। মহিলা প্রার্থী না থাকা নিয়ে কিছুটা অভিমানের সুর ছিল জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ অপর্ণা ভট্টাচার্যের গলায়। জবাবে অভিষেক বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা। রাজ্যে ৫২টি আসনে মহিলা প্রার্থী রয়েছেন সমস্যা কোথায়? এদিন মিটিং শুরু হওয়ার আগে অভিষেক চণ্ডীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য, কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি, কাঁথি দক্ষিণের প্রার্থী তরুণ জানা এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডাকে পর পর ডেকে মুখোমুখি বসিয়ে কথা বলেন। কার কি সমস্যা জানতে চান। গোড়াতেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলেন, ‘দল এখন বড় হয়েছে। পুরনো ও নতুন সকলের মধ্যে চাহিদা বেড়েছে। এক জায়গায় দশজন দাঁড়াতে পারেন না। একজনই দাঁড়াবেন। দল যাকে প্রার্থী করেছে তাঁকে ভালো লাগুক আর নাই লাগুক, তাঁকে জেতাতেই হবে। মান-অভিমানের কোনও জায়গা নেই। লোকসভায় আমাদের ভালো ফলাফল হয়নি। তবে, কোন ওয়ার্ড এবং বুথে দুর্বলতা আছে, সে সব কাটিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে সবাইকে ঝাঁপাতে হবে। পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের উদ্দেশ্যে বলব, পদে থাকব, আর ফল দেব না, তা চলতে পারে না। মনে রাখবেন, আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যেই সকলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’অভিষেক জেলার নেতাদের কাছে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পারফরম্যান্সই শেষ কথা। সম্প্রতি ৭৩টি পুরসভার চেয়ারম্যান বদল করা হয়েছে। তৃণমূলে পদে থাকার একটাই মাপকাঠি, তা হল পারফরম্যান্স। আপনি পারফরম্যান্স ভালো করলে দল পুরস্কৃত করবে। না করলে দল ব্যবস্থা নেবে। জেলার শাখা সংগঠনগুলি ঠিকমতো কাজ করছে না বলে আগে থেকেই অবগত অভিষেক। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের কাজে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেন। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে উপদল কনসেপ্ট আপনারা আনছেন। ছাত্র, যুব, মহিলা সংগঠনকে একসঙ্গে চলতে হবে। আগামীদিনে এই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ৮-০ রেজাল্ট করতে হবে বলেও নির্দেশ দেন অভিষেক। অমিত শাহের ভোট পর্যন্ত রাজ্যে থাকার প্রশ্নে অভিষেক বলেন, ‘বাংলার রসগোল্লা খাওয়াবো।’ দীঘায় তৃণমুলের কর্মিসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।