Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নামেই জলপ্রকল্প, পূর্বস্থলীর গ্রামে পানীয় জলের হাহাকার

পানীয় জলের প্রকল্প রয়েছে। পাইপলাইন পাতা হয়েছে গ্রামে গ্রামে। অথচ, জলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। পূর্বস্থলীর বহু গ্রামে এখনও একাধিক পরিবারকে পানীয় জল কিনে খেতে হয়!

নামেই জলপ্রকল্প, পূর্বস্থলীর গ্রামে পানীয় জলের হাহাকার
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: পানীয় জলের প্রকল্প রয়েছে। পাইপলাইন পাতা হয়েছে গ্রামে গ্রামে। অথচ, জলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। পূর্বস্থলীর বহু গ্রামে এখনও একাধিক পরিবারকে পানীয় জল কিনে খেতে হয়! কোনো গ্রামে পাম্প হাউস রয়েছে তো চালু হয়নি। আবার কোনো গ্রামে পানীয় জলের গতি কম। কোনো গ্রামে আবার পানীয় জল পৌঁছয়নি। পূর্ব বর্ধমান জেলা পিএইচই’র এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গোপেন পাল বলেন, ‘আমরা তালিকা তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। আশাকরি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

Advertisement

আর্সেনিকের ছোবলে একদা বিধ্বস্ত ছিল পূর্বস্থলী-২ ব্লকের বহু গ্রাম। অনেক মানুষ আর্সেনিকে মারা গিয়েছেন। পাশাপাশি, ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর ব্লকে অনেকটা নেমে গিয়েছে। তাই বেশ কয়েক বছর আগে পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মাজিদা পঞ্চায়েতের কমলনগরে জলপ্রকল্প তৈরি করেছিল রাজ্য সরকার। তৎকালীন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় ওই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রথমে ঠিক হয় ৬৬টি মৌজায় ৪টি রির্জাভার করে প্রকল্প চালানো হবে। সেইমতো এলাকায় ট্যাপ কল বসিয়ে আর্সেনিক মুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ শুরু হয়। পরবর্তীকালে ঠিক হয় বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হবে। তার কাজও শুরু হয়। কিন্তু  দেখা যায়, আগে যে সংখ্যক বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয় পরে সেই সংখ্যাটা বেড়ে যায়।  পাশাপাশি অতিরিক্ত রিজার্ভার তৈরির প্রয়োজন হয়। ২০২২ সাল নাগাদ পাইপলাইন পাতার কাজ সম্পূর্ণ হয়। 
পানীয় জল সরবরাহে যাবতীয় পরিকাঠামো ঠাসা থাকা সত্ত্বেও পূর্বস্থলীর বহু গ্রামে আজও ঘরে ঘরে জলসঙ্কট। পূর্বস্থলীর মাজিদা অঞ্চলেরই সিংহারি মৌজার মিসবাপুর গ্রামে দু’বছর আগে পাম্প হাউস তৈরি হয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে। বোরিং করা রয়েছে৷ এখনও তা চালু হয়নি। সেখানে ভূ-গর্ভস্থ জল তোলার জন্য পাম্প বসানো হয়নি। ওই প্রকল্প এলাকাটি এখন ঝোপ-ঝাড় জঙ্গলে পরিপূর্ণ। হেলদোল নেই প্রশাসনের। 
মিসবাপুর গ্রামের বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন শেখ, মনিরউদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমাদের জল এখনও কিনে খেতে হয়। জল প্রকল্প কবে চালু হবে তা ঠিক নেই।’ শুধু মিসবাপুর নয়, মাজিদা,  তামাঘাটা গ্রামেও একই চিত্র। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, বাড়ি বাড়ি ভাগীরথীর জল পৌঁছনোর সরকারি পরিষেবাও প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। একসময় পাইপলাইনের মাধ্যমে জল দেওয়া হতো সেটাও  কয়েকদিন চলার পরেই  বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তামাঘাটা গ্রামেই কয়েকজন জল বিক্রি করছেন। ২০ লিটার জলের দাম ১০ টাকা। প্রতিদিনের জল কিনতেই একটি পরিবারের মাসে প্রায় ৬০০ টাকা বা তারও বেশি খরচ হচ্ছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমলনগর জলপ্রকল্প থেকে ৬৪ টি মৌজায় জল সরবরাহের কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। এখন ওই প্রকল্প থেকে প্রায় ৩২টি মৌজায় জল সরবরাহ করা হয়। ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইন্সটিটিউট থেকে ২০২৩ সালে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখা গিয়েছিল বিশ্বে ২৫টি দেশে জল সংকট রয়েছে। ভারত সেখানে ১৩তম স্থানে। ভূ-গর্ভস্থ জলের পরিমাণও কমে আসছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রশাসনের উচিত ভূ-গর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নদীর জল ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া। পূর্বস্থলীর ক্ষেত্রেও ভাগীরথীর জল পরিশোধন করে সরবরাহ চানা তাঁরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ