নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া পুরসভার জল-রাজনীতি! আবাসনে জলের সংযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না পুরসভায়। নিয়ম ভেঙে পুরুলিয়া শহরের একটি আবাসনে জল দেওয়ার বিরোধিতা করে কিছুদিন আগেই পুরুলিয়ার মহকুমা শাসক উৎপল ঘোষের দ্বারস্থ হয়েছিল পুরসভার একদল কাউন্সিলার। তারপর কেটে দেওয়া হয় জলের সংযোগ। এবার পুরসভার সমস্ত আবাসনে জলের সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলেন তিন কাউন্সিলার।
পুরুলিয়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রোটারি হাসপাতালের পিছনে একটি আবাসন রয়েছে। ওই আবাসনের প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে আবাসনের ১৪টি পরিবারকে জলের সংযোগ দিয়েছে পুরসভা। মোট ১৪টি জলের মিটার রয়েছে। যদিও অভিযোগ, সেই জল ব্যবহার করছেন গোটা আবাসনের বাসিন্দারা। যাঁদের মিউটেশন নেই, পুরসভাকে কর দেন না, তাঁরা কেন পুরসভার জলের সুবিধা পাবেন, এই নিয়েই সরব হয়েছিল কাউন্সিলারদের একাংশ। এনিয়ে এসডিওর সঙ্গে দেখা করেছিলেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান, সিআইসি আনোয়ারি বিবি, সমীরণ রায়, প্রদীপ ডাগা, কাউন্সিলার বৈদ্যনাথ মণ্ডল, সৈয়দ শাহি প্রমুখ। তারপরেই জলের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই কাউন্সিলারদের দাবি, আবাসনে জল দেওয়ার ব্যাপারে পুরসভার নির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই। তাছাড়া আবাসনের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ট্যাক্স বাকি। বারংবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা মিউটেশন করছেন না। এব্যাপারে তাঁদের সদিচ্ছাও দেখা যায়নি কোনওদিন। শহরের বহু গরিব মানুষ যারা নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছে, জলের সংযোগের জন্য পুরসভাকে দু’হাজার টাকা করে দিয়ে রেখেছে, তাদের তিন বছর ধরে জল দিতে পারছে না পুরসভা। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা কীভাবে আবাসনে জল দিতে পারে? যদিও ওই নির্দিষ্ট আবাসনে জল দেওয়া নিয়ে চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালির যুক্তি ছিল, ওই আবাসনে আমরা ট্রায়াল রান করছিলাম। পরবর্তীতে সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। জলের সংযোগ কেটে দেওয়ার পরেই শুক্রবার মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হন পুরসভার তিন কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস, সুনয় কবিরাজ ও রবিশঙ্কার দাস। বিভাসবাবু বলেন, যাঁরা আবাসনে বাস করেন, তাঁদের কেন বঞ্চিত করা হবে? তাঁরাও তো শহরের ভোটার। আমরা চাই সবাইকে জল দেওয়া হোক। পুরসভার সিআইসি তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা পাল্টা বলেন, পুরসভার বোর্ড তিনজনকে নিয়ে নয়, ২৩ জনের। আবাসনে জল দেওয়ার ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বোর্ড নেবে। প্রদীপবাবুর সংযোজন, আবাসনে যাঁরা থাকেন, তাঁদের অনেকেই শহরের ভোটারই নন। তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে শহরের বাকি বাসিন্দাদের বঞ্চিত করব কেন? আমরা আবাসনে জল দেওয়ার বিপক্ষে নয়। সবাই ট্যাক্স, মিউটেশন জমা দিক, নিশ্চয়ই জল দেওয়া হবে। পুরসভার জল বিভাগের সিআইসি সমীরণ রায় বলেন, আবাসনে জল দিতে গিয়ে অন্য বাসিন্দারা যেন বঞ্চিত না হন, সেটা দেখা দরকার। এসডিও বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বলেন, আবাসনে কীভাবে জল দেওয়া হবে, কত পরিমাণ জল দেওয়া হবে, তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা পুরসভার কাছে নেই। আমরা বিষয়টি রাজ্যকে জানিয়েছি। রাজ্যের তরফে যেমন নির্দেশিকা আসবে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।