নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন দফায় দফায় চার ঘণ্টারও বেশি বন্ধ রইল শহরের লাইফলাইন মেট্রো।
সোমবার সকালে সেন্ট্রাল ও চাঁদনি চক মেট্রো টানেলের মাঝের অংশ দিয়ে জল ঢুকে ট্র্যাক ভেসে যায়। বিদ্যুৎবাহী থার্ড লাইনে জল জমে। বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আটটা ৪৩ মিনিট থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে ময়দান থেকে গিরীশ পার্ক যাত্রী পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়েন লক্ষ লক্ষ মানুষ। অতি বৃষ্টির জেরে শহরের জল মেট্রো ট্র্যাকে ঢুকেছে-এই যুক্তিতে কলকাতা পুরসভার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে রেল। পুরসভা পাল্টা মেট্রোর অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজকে এই দুর্ভোগের প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এর মধ্যে জল ঢোকার পথ আটকে ও পাম্প চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়। তা করতে করতে বেজে যায় ১১টা ১৫।
এই আড়াই ঘণ্টার জলযন্ত্রণা কাটতে না কাটতেই নয়া বিপত্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। সকাল ১১টা ১০ নাগাদ নাগাদ বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনের ডাউন প্ল্যাটফর্মে ঝাঁপ দেন ৬১ বছরের এক বৃদ্ধ। মেট্রোর চাকায় তাঁর শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে ফের দক্ষিণেশ্বর থেকে গিরিশ পার্ক পর্যন্ত মেট্রো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। থার্ড লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় আরজি কর হাসপাতালে। বৃদ্ধকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ গোটা পথে মেট্রো চলাচল শুরু করা হয় বলে রেলের দাবি। সবমিলিয়ে দু’দফায় চার ঘণ্টা মেট্রো চলাচল বিপর্যস্ত হয়েছে এদিন। এর প্রভাব পড়ে মাটির উপরেও। গোটা কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। এর জের চলতে থাকে রাত পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, গত শনিবার নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশনে জল ঢুকে প্রায় দেড় ঘণ্টা যাত্রী পরিষেবা বন্ধ ছিল। একই ভাবে গতবছর এই সময় পার্ক স্ট্রিট স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম জলে ডুবে গিয়েছিল। পাঁচ ঘন্টা বন্ধ ছিল দেশের প্রথম মেট্রো রুট। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শহরে ছিলেন। তিনি রেলমন্ত্রীর কাছে গোটা বিষয়টি নিয়ে কৈফিয়ত তলব করেছিলেন। কিন্তু তারপরও একই ঘটনা। ফলে মেট্রো কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা।



