নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: নিম্নচাপের প্রভাবে আরামবাগ মহকুমায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মহকুমার নদ-নদীগুলির জলস্তর ফের বাড়তে শুরু করেছে। হুগলি জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজনকে সতর্ক করেছে। এদিন হুগলি জেলা প্রশাসনের তরফে একটি পর্যালোচনা বৈঠকও হয়। এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
শুক্রবার দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন প্রায় ৬২ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। তবে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। সেচদপ্তরের হুগলি ডিভিশনের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, এদিন প্রথমে ডিভিসি ৬৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ে। পরে তা কমে ৬২ হাজার করা হয়। দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী নদীতে কিছুটা জল বাড়লেও বিপদ সীমা থেকে অনেকটাই নীচে রয়েছে। ফলে আতঙ্কের কোনো ব্যাপার নেই।
নিম্নচাপের প্রভাবে দ্বারকেশ্বর নদেও জলস্তর আগের তুলনায় বেড়েছে। বাঁকুড়া ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেই জল এখন দ্বারকেশ্বর নদ দিয়ে আরামবাগে নামছে। ফলে আজ, শনিবার আরও জলস্তর বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
শুক্রবারও দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। আকাশও ছিল মেঘলা। ভারী বৃষ্টির জেরে আরামবাগ শহর সহ বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার উপর জল জমে গিয়েছে। তাতে চলাচলে সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা। খানাকুলের গোপালনগর এলাকায় একটি গাছ রাস্তার উপর ভেঙে পড়ে। তাতে মায়াপুর-গড়েরঘাট রাজ্য সড়কে যান চলাচল সাময়িক ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এবং খানাকুল-২ পঞ্চায়েতের প্রধান সরস্বতী দাস সেখানে যান। গাছটিকে কেটে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ প্রশাসন। মহকুমা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত মহকুমায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর নেই। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।