Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটার নাকি জনসংখ্যা, ডিলিমিটেশনের ভিত্তি কী? ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ বিরোধীদের জনশুনানির দাবি

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ভিত্তি কী? জনসংখ্যা নাকি ভোটার? মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার শহরের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে সর্বদল বৈঠকে এই প্রশ্নই তুলল প্রায় সব বিরোধী দল।

ভোটার নাকি জনসংখ্যা, ডিলিমিটেশনের ভিত্তি কী? ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ বিরোধীদের  জনশুনানির দাবি
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ভিত্তি কী? জনসংখ্যা নাকি ভোটার? মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার শহরের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে সর্বদল বৈঠকে এই প্রশ্নই তুলল প্রায় সব বিরোধী দল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তাদের। এসআইআর ও জনগণনার প্রক্রিয়া শেষ না করেই কেন তড়িঘড়ি ডিলিমিটেশন করা হল? কেন জনশুনানি করা হচ্ছে না? সব ওয়ার্ডে পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো কোথায়? এসব প্রশ্নে কার্যত এক সুর শোনা গিয়েছে সর্বদল বৈঠকে হাজির হওয়া বাম, তৃণমূল ও কংগ্রেস প্রতিনিধিদের। পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের মতামত লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। 

Advertisement

ডিলিমিটেশনের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের পর সোমবার সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছিল পুরসভায়। সেখানে এদিন রাজনৈতিক দলগুলির কাছে যে মানচিত্র তুলে ধরা হয়, সেটি ওয়ার্ডভিত্তিক নয়। কোন ওয়ার্ড বদলে কত নম্বর হচ্ছে, কোন ওয়ার্ডে কোন বুথ বা পার্ট পড়ছে, এসব কিছুই স্পষ্ট হয়নি সেই মানচিত্রে। অভিযোগ, প্রতি ওয়ার্ডে কমবেশি ভোটার সংখ্যা এক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। এমন কেন হল, তাও প্রশাসক স্পষ্ট করেননি বলে দাবি বিরোধী দলগুলির। 
বিরোধী বাম (সিপিএম ও সিপিআই), তৃণমূল ও কংগ্রেসের  বক্তব্য, রাজ্যের ২৭ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখনও বিচারাধীন। এসআইআরের সেই পর্ব শেষ না করে কীভাবে ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হল? এখন সেন্সাসের কাজ চলছে। তা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যাই বা কীভাবে নির্ধারিত হল? এদিন কংগ্রেসের তরফে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘জনসংখ্যা নাকি ভোটার সংখ্যা ধরে ওয়ার্ড ভাগাভাগি হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। জনগণনার পর এটা করা উচিত ছিল। তড়িঘড়ি হচ্ছে। জনশুনানি করুন।’ কালীঘাট তৃণমূলের তরফে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রত্না শূররা বলেন, ‘জনগণনা না করে কীভাবে ডিলিমিটেশন হচ্ছে? পরে ওয়ার্ডের জনসংখ্যা তো বেড়ে যাবে। আসলে প্রভুকে খুশি করতেই তড়িঘড়ি এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস।’ ২০৯টি ওয়ার্ড হলে পুর-পরিষেবার বিপুল চাপ সামলানোর পরিকাঠামো কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। ঋতব্রত তৃণমূলের তরফে সন্দীপন সাহা বলেন, ‘কোন ওয়ার্ড বদলে কী হল, সেটা স্পষ্ট করতে হবে। বুথভিত্তিক ওয়ার্ড বিন্যাস জনসমক্ষে আনা হোক।’ জাভেদ খান বলেন, ‘এখনও বহু ভোটার বিচারাধীন। সেই সমস্যা না মিটিয়ে ডিলিমিটেসন উচিত নয়।’ কেন কিছু কিছু ওয়ার্ডে অত্যন্ত কম ভোটার রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বামেদের তরফে সুব্রত দত্ত বলেন, ‘ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হওয়া দরকার জনসংখ্যার নিরিখে। সেটা তো হচ্ছে না। ভোটার তালিকা ধরে হলেও তো এসআইআরে এখনও অনেকের নাম বিচারাধীন। কারও নাম পরে ভোটার তালিকায় ঢুকলে সেটা তো এখন হিসাবে আনা যাবে না। আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই পুনর্বিন্যাস। ডিলিমিটেশনের পদ্ধতিতে গণতন্ত্রের ছাপটুকু নেই।’ রাজ্য নির্বাচন কমিশন কোথায়, প্রশ্ন বামেদের। বিজেপি নেতা চিত্তরঞ্জন দে বলেন, ‘ওয়ার্ডের মানচিত্র ও জায়গায় অদলবদল নিয়ে অভিযোগ ছিল। ওরা বলেছে শুনানি করে সমাধান করা হবে।’ প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে শুনানি হবে। প্রয়োজন হলে সংশোধন করেই চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে দপ্তর। এদিনের বৈঠকে দলীয় প্রতিনিধি হিসাবে মধুছন্দা দেব, কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়, মৌসুমি ঘোষ, অজিতেশ পান্ডে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ