


সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: এসআইআরে ফুলবাড়িতে ব্যাপক হারে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে, না হলে বিচারাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগে সরব হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়েছে দলের সংখ্যালঘু সেলের নেতার নাম বিচারাধীন থাকায়।
তৃণমূলের অভিযোগ, ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বরাবরই তৃণমূল লিড পেয়ে এসেছে। এখনও পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে বিজেপি এখানে সুবিধা করতে পারেনি। সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা এখানে বেশি। সেজন্য তৃণমূলকে হারাতে এলাকা বেছে এখানকার সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে বিজেপি। তাই অনেকের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে এবং গণহারে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ রায়। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ভোটার বাদ দেওয়ার চক্রান্তে বিজেপি তাদের সংখ্যালঘু নেতাকেও ছাড় দেয়নি। এতে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিজেপির প্রকৃত রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
মতিউর রহমান বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের ফুলবাড়ি মণ্ডলের শীর্ষ নেতা। সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে বিজেপিতে তাঁর বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর নামই ভোটার তালিকায় বিচারাধীন রয়েছে। ডাবগ্রাম- ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকা থেকে ৫৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে অনেকেই। ফুলবাড়ির চুনাভাটি থেকে শুরু করে একের পর এক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মনে হাজার প্রশ্ন, উদ্বেগ।
একথা অস্বীকার করেননি বিজেপির সংখ্যালঘু নেতা মতিউর রহমান। তিনি বলেন, আমার নামও বিচারাধীন রয়েছে। এটা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়েছে। তাই অযথা উদ্বেগের কারণ নেই। যাঁরা প্রকৃত নাগরিক, পুরনো নথি রয়েছে তাঁদের নাম বাদ যাবে না।
তবে তাঁর নাম কেন বিচারাধীন হল তা বুঝে উঠতে পারছেন না মতিউর রহমান। তিনি বলেন, আমার বাবা, ঠাকুরদা সকলেই এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভোট দিয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। সবই জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও বিচারাধীন কেন বুঝতে পারছি না। তবে এটুকু নিশ্চিত, প্রকৃত নাগরিকদের কারও নাম বাদ যাবে না। তৃণমূল নেতা দিলীপ রায় বলেন, সংখ্যালঘুদের নামের ক্ষেত্রে বাবার নামের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের পদবীগত মিল থাকে না। এই দিকটিকে হাতিয়ার করেই সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি। আমরা এর প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমেছি।