


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উৎসবের মরশুম চলছে। ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও বেশকিছু দিন বাকি রয়েছে। তবে, তার আগেই টোপ ফেলতে শুরু করেছে প্রতারকারা। ফোন করে তারা বলছে, টাকা দিলেই মিলবে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট। এক থেকে দেড় কোটি টাকার প্যাকেজ। অগ্রিম হিসেবে কয়েক লক্ষ টাকা দিতে হবে। মূলত তৃণমূল নেতাদের কাছে এই টোপ আসছে। যদিও নেতৃত্ব আগেই প্রতারকদের থেকে দূরে থাকার জন্য সকলকে সতর্ক করে দিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এভাবে কেউ কাউকে টিকিট পাইয়ে দিতে পারবে না। দলে এই নিয়মও নেই। পারফরম্যান্স দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। টাকার বিনিময়ে কখনওই কেউ কোনও পদ বা টিকিট পেতে পারে না।
তৃণমূলের এক নেতা বলেন, কয়েকদিন আগেই এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। বিভিন্ন ছবি দেখে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে দাবি করতে থাকে। সে নিজে থেকেই টিকিট পাইয়ে দেওয়ার অফার করে। তার সঙ্গে আরও অনেকেই যোগাযোগ করেছে বলেও সে দাবি করতে থাকে। কে কোথায় টিকিট পাচ্ছে, সেই তালিকা সে নিজের মতো করে বলতে থাকে। প্রাথমিক কথা হওয়ার পর সে ফিরে যায়। পরে ফোন করে জানায়, টিকিট পাওয়ার জন্য এক কোটি টাকা দিতে হবে। তবে, অগ্রিম দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা দিলেই সে নাম বুকড করে দেবে বলে জানায়। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি লাগে। ফোন কেটে দিই। কিন্তু তারপরও সে অনবরত ফোন করতে থাকে। দলের আর এক নেতা বলেন, একইভাবে একটি প্রতারক চক্র পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলেছিল। কলকাতায় পুলিশ ধরপাকড় শুরু করায় ওই গ্যাংটি পিছু হটে। এখন নতুন আর একটি প্রতারক চক্র ময়দানে নেমেছে। টিকিটের টোপ দিয়ে তারা অনেক নেতার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ কেউ তাদের বিশ্বাস করছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক সংস্থার কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। এককভাবে কেউ টিকিট পাইয়ে দিতে পারবে না। জেলার সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের দখলে রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটিতে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সুযোগটাকেই প্রতারকরা কাজে লাগাচ্ছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, যেসব প্রতারক টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা উচিত। দলও বিষয়টি দেখছে। প্রতারকদের চিহ্নিত করা হবে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতারকরা শাসক দলের প্রভাবশালীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন সময়েই যে ছবি তোলে। সেটাই তাদের কাছে তুরুপের তাস হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জেলার নেতাদের কাছে গিয়ে তারা সেই ছবি দেখিয়ে টাকা হাতানোর ছক করে।