


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: কয়েকদিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে ভুতুরে ভোটার। এই অদ্ভুতুরে কাণ্ড ঘিরে ফের শুরু বিতর্ক।
দিনকয়েক আগে বারাসতের বাসিন্দা বাসুদেব রায় ভোটার কার্ডের দৌলতে পেয়েছিলেন ভুতুড়ে মেয়ে। এবার সাগরের রামকরচর এলাকার শেখ তহিদ পেলেন একটি ‘ভূতুড়ে ছেলে’। এ খবর জানার পর গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের বদান্যতায় তহিদের কপালে এবার আরও একটি ছেলে জুটল।’
ভুতুরে ভোটার হিসেবে যে নাম রয়েছে তালিকায় সেটি হল ‘রাজু শেখ’। তালিকায় তাঁর বাবার নাম হিসেবে লেখা শেখ তহিদের নাম। অথচ তহিদের দাবি, ‘এই নামে তাঁর কোনও ছেলেই নেই।’ আর স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, ‘রাজু শেখ নামে কোনও ভোটার থাকেনই না এই এলাকায়’ তাহলে প্রশ্ন, রাজুর নাম কীভাবে ঢুকল ভোটার তালিকায়? সে উত্তর মিলছে না বলে সবাই বলছেন, ‘ভুয়ো ভোটার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। এই ঘটনায় সেই ভুয়ো ভোটার তত্ত্ব ফের প্রতিষ্ঠিত হল।’
জানা গিয়েছে, রামকরচর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৯ নম্বর বুথে বাস করেন শেখ তহিদ। তিনি এখানকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম শেখ ইসমাইল। ছোট ছেলের নাম সেখ জব্বার। দুজনেরই নাম ভোটার তালিকায় আছে। এবার বাড়ি বাড়ি ভোটার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেল, ওই বৃদ্ধর আরও এক ছেলে আছে। শুনে তাজ্জব শেখ তহিদ নিজে। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। রাজু শেখ বলে কাউকে তো চিনিই না।’ তহিদের বড় ছেলে শেখ ইসমাইলেরও বক্তব্য, ‘আমরা দুই ভাই। রাজু নামে আমাদের আর কোনও ভাই নেই। কিন্তু নতুন ভোটার তালিকায় দেখছি আমাদের আরও এক ভাই আছে বলে দেখানো হয়েছে। তিনি নিশ্চয় ভুয়ো ভোটার।’ তাহলে কে এই রাজু শেখ? সেই ব্যক্তির খোঁজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনও তাঁর টিকি পর্যন্ত দেখা যায়নি।
গ্রামের মানুষের প্রশ্ন, ‘কেউ কি তাহলে শেখ তহিদের নাম ব্যবহার করে এই গর্হিত কাজ করেছেন?’ জানা গিয়েছে, রাজু নামটি ২০২৪ সালে তৈরি ভোটার তালিকায় ছিল না। এ বছর নয়া তালিকায় সে নাম উঠেছে। রাজুর যে এপিক নম্বর সেটি নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে দিলে যে ঠিকানা দেখা যাচ্ছে, সেটি শেখ তহিদের ঠিকানা। ফলে এই ঘটনায় ব্যাপক রহস্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। এমনকী রাজ্যের একজন মন্ত্রী পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী ও সাগরের বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, ‘শেখ তহিদ সাগরের খানসাহেবাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে। কিন্তু রাজু শেখ নামে তাঁর কোনও ছেলে নেই। এই এলাকাতেও এই নামে কোনও ভোটারও নেই। বিষয়টি সামনে আসার পর পুরোটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’