নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইনস্টাগ্রামে আন্দোলনের যে রিলস দেখে হাসির কলোরোল ওঠে, আসলে সেই কার্যকলাপই রাস্তার আন্দোলনে সাহস জোগায়। কলকাতা ছাড়ার আগে ‘যন্তরমন্তর ২.০’ আন্দোলন নিয়ে এমনটাই বলে গেলেন আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভেনশনে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।
দীপঙ্করবাবু এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপনির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘এরকম পুলিশি সন্ত্রাসে উপনির্বাচন দেখিনি।’ এসআইআর নিয়ে তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘এসআইআর হল শান্তিপূর্ণ ব্যাপক গণহত্যা। নির্বাচনের নামে প্রহসন হল। যে আইন করে জ্ঞানেশ কুমারকে বসানো হয়েছে সেই আইন বাতিল করতে হবে। আমরা সকলে রাস্তায় আছি। কেউ ঘরে বসে নেই।’ তাই তাঁদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল করা ও সেই আইন বাতিল করা। এর পাশাপাশি বিহার ও বাংলায় নতুন করে নির্বাচনের দাবিও করেন তিনি। দীপঙ্করবাবু আরও বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘরে ঢুকে যাওয়াটা আসলে আমাদের শুরু ছিল।’
অন্যদিকে, নেহা বলেন, ‘ককরোচ পার্টির ডাকে ১০ তারিখ আমরা থাকব। যন্তরমন্তর তো প্রস্তাবিত বিক্ষোভ করার এলাকা। তবুও আমাদের সেখান থেকে বারবার আটক করেছে। গণতন্ত্রের সঙ্গে গদ্দারি করা জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর জন্য অমিত শাহ পুলিশ নামিয়েছে।’ তিনি বলছেন, ‘জেন জি এখন আর ভয় পাচ্ছে না। ওরা বাস থেকে নেমে যাচ্ছে, বাসের চাবি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এখন ভয় জিনিসটা চলে গিয়েছে।’ নেহার সাফ বক্তব্য, ‘জ্ঞানেশ নিজে পুতুল হলেও তিনি তো আর নির্দোষ নন।’
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন শেষে নেহা ছাত্রদের নিয়ে বৈঠক করেন। এদিন সিপিএমের কৃষক সংগঠনের রাজ্য দপ্তরে লিবারেশনের তরফে এই সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। যদিও দীপঙ্করবাবু বলেন, তাঁরা ভাড়া নিয়েই এখানে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। অন্যদিকে, আগামী মঙ্গলবার সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার ফেরানোসহ একাধিক দাবিতে একটি নাগরিক কনভেনশনের ডাক দিয়েছে। কলামন্দিরে এই কনভেনশনে যোগ দেবেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা সহ অনেকে।