নয়াদিল্লি: দিল্লিতে চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের মধ্যে শ্রেণি বিভাজনের চেষ্টা? এমনই অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে খাড়্গে বলেছেন, ভোটারদের মধ্যে ‘ভিআইপি’ এবং ‘সাধারণ ভোটারে’ বিভাজন করা হচ্ছে। দেশে সকল প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এখন কি ভিআইপি ভোটার, সাধারণ ভোটার-এভাবে শ্রেণি বিভাজন করা হয়? আমাদের সংবিধানে এক ব্যক্তি, এক ভোট স্বীকৃত। সকলের ভোটের গুরুত্ব সমান। এখন নয়া ভিআইপি ভোটার শব্দবন্ধের মাধ্যমে সংবিধানকে কি অবমাননা করা হচ্ছে না? ভিআইপি ভোটের মূল্য কি বেশি হয়ে গিয়েছে?’
সম্প্রতি দিল্লিতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া চলাকালীন ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’র কারণে প্রাক্তন উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার, প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ বহু বিশিষ্টকে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। এই নিয়ে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, নোটিস পাঠানো হলেও তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে এখনই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। রবিবার সেই কথাটাই আবার প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে জানিয়েছে দিল্লির নির্বাচনী দপ্তর। তাতে বলা হয়েছে, এসআইআরের খসড়া তালিকায় ‘ভিআইপি\ চিহ্নিত ভোটার’ হিসাবে যাদের দেখানো হয়েছে, তাদের নাম এখনই বাদ যাবে না। প্রত্যেকেই নিজেদের বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবেন। এরপরই খাড়্গে নির্বাচনী দপ্তরকে একহাত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘ভিআইপি ভোটাররা কি এবার বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করল? ভিআইপি ভোটারদের জন্য প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হচ্ছে। আর সাধারণ ভোটারদের কেবল নীরবতাই প্রাপ্য! বিহার থেকে এসআইআরের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন দিল্লিতেও তার আঁচ পড়েছে। এখন ক্ষমতাবানরাও বুঝতে পারছেন কংগ্রেস কেন এসআইআর প্রক্রিয়াকে প্রথম থেকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে কেবল বিজেপি লাভবানই হয়নি, এই ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন দৈত্যের জন্ম দিয়েছে। এটা তাদের নিজেদের লোকেদেরও ফাঁদে ফেলতে শুরু করেছে।’