সুকান্ত বসু, কলকাতা: সারাবছর অবজ্ঞা করে সমাজ। সারাবছরই প্রশাসনের অবহেলা সহ্য করতে হয়। এই আচরণের প্রতিবাদে নিজেদের ভিটের মাটি পুজোয় দিতে রাজি নন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা। কোনো অবস্থাতাতেই তাঁরা মাটি দেবেন না কোনো পুজো উদোক্তাকে।
সোনাগাছির যৌনকর্মীরা বলেন, ‘আমাদের একাধিক দাবিদাওয়া আছে। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয় না। তাই আমরা ভিটের মাটি কারও হাতে তুলে দেব না।’ ক্ষোভপ্রকাশ করে তাঁরা জানান, সারাবছর তাঁদের চরম অবজ্ঞা ও অবহেলার চোখে দেখা হয়। শুধু পুজো এলে মাটির প্রয়োজনে তাঁদের কাছে আসেন সবাই। তাঁদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বিশাখা লস্কর বলেন, ‘পুজো সকলের মতো আমাদেরও আনন্দে কাটুক। সে উদ্দেশে আমরা দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলাম। আমাদের পুজো ১৪তম বর্ষে পা দিল।’ তিনি জানান, আগে ঠাকুর আসত কুমোরটুলি থেকে। কিন্তু দাম বেশি থাকার কারণে এবার শ্রীরামপুর থেকে আনা হচ্ছে। প্রতিমা সাড়ে ছ’ফুটের, একচালার।
চতুর্থীতে প্রতিমার আবরণ উন্মোচন। সোনাগাছিতে পুজো থেকে দেবী নিরঞ্জন সব কাজ করেন যৌনকর্মীরাই। সঙ্গে থাকেন তাঁদের ছেলে‑মেয়েরাও। পুজোর সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে, নাচ, গান, কবিতা, ছবি আঁকা ইত্যাদি। তাতে অংশ নেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। নবমীতে তাঁরা সবাই মিলে খাওয়া‑দাওয়া করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে কলকাতার অন্যান্য নিষিদ্ধপল্লিতে গাড়ি পাঠিয়ে প্রসাদ পাঠানো হয়। বিশাখাদেবী বলেন, ‘নবমীতে ৩০০ কেজির চাল ও ডালের খিচুড়ি, ৩০০ কেজি সব্জি এবং ১০০ কেজি দুধের পায়েস হয়। ভোর থেকে শুরু হয় রান্না। যৌনকর্মীরা জানান, দশমীতে সন্ধ্যায় দুর্গাকে আহিরিটোলা ঘাটে গঙ্গায় নিরঞ্জন দেওয়া হয়। ধুনুচি নাচ ও বিসর্জনে অংশ নেন তাঁরা। তারপর হয় মিষ্টি মুখ। অন্যান্য বছরের মতো এবারও আসানসোল, দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর ও আলিপুরদুয়ারে দুর্বারের উদ্যোগে হচ্ছে পুজো।



