


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মঙ্গলবার দোলযাত্রা উৎসব তথা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ৫৪১তম আবির্ভাব তিথি। সেই উপলক্ষ্যে নবদ্বীপ ও মায়াপুরে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়। বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে গৌর পূর্ণিমা তিথিতেই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির সহ বিভিন্ন মন্দিরে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হবে মঙ্গলারতি, ভাগবত পাঠ, হোলি কীর্তন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে মায়াপুর ইসকন মন্দিরেও মহা সমারোহে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি উদযাপিত হবে।
দোলের দিন সকাল থেকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে লাল চেলি ও উত্তরীয় পরানো হবে। হাতে দেওয়া হবে রূপোর বাঁশি। মাথায় মোহন চূড়া, গলায় প্রজাপতি হার, অর্দ্ধমটর মালা যা বছরের এই দিনেই পরানো হয়। প্রায় চার›শো ভরি বিভিন্ন স্বর্ণালংকারে সুসজ্জিত করা হবে বিগ্রহ। এ বছর চন্দ্রগ্রহণ থাকায় সূর্যাস্তের পর থেকে সন্ধ্যা ৬-৪৮ মিনিট পর্যন্ত গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর গর্ভগৃহ বন্ধ থাকবে।
গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত তথা বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, এদিন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে মধ্যাহ্নে প্রতিদিনের মত পঞ্চব্যঞ্জন সহকারে রুপোর থালা, গ্লাস বাটিতে ভোগ নিবেদন করা হবে। সন্ধ্যা সাতটার পর প্রভুর উদ্দেশ্যে সনাতন মিশ্রের রাজরাজেশ্বর শালগ্রাম শিলার পঞ্চামৃত, পঞ্চগব্য দ্বারা অভিষেক করা হবে। শুধু ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির নয়, আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে জন্মস্থান মন্দির, সমাজবাড়ি, শ্রীবাসঅঙ্গন, সমাজবাড়ি, বলদেব জীউ মন্দির, প্রাচীন মায়াপুর রাধা মদন গোপাল মন্দির, শ্রীকুঞ্জ, রাধা শ্যামসুন্দর মন্দির, গৌর গোপীনাথ মন্দির সহ বিভিন্ন মঠ মন্দিরে দিনটি উদযাপন করা হবে। এদিন চন্দ্রগ্রহণ থাকায় গ্রহণ ছাড়ার পর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দির থেকে নামসংকীর্তন শোভাযাত্রা সহকারে কয়েক হাজার ভক্ত গঙ্গাবারি আনবেন। তাঁর পর সেই গঙ্গাবারি দিয়ে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর অভিষেক হবে। এরপর জন্মলীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিকালে নবদ্বীপ পুরাতত্ত্ব পরিষদে গৌরাঙ্গের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে ওড়িয়া ভাষায় শ্রীচৈতন্য প্রসঙ্গে বলবেন শেখ মকবুল ইসলাম। চৈতন্য বিষয়ক দু’টি বই প্রকাশ পাবে। -নিজস্ব চিত্র