Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

ডিভিসির ছাড়া জলে আরামবাগের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত, ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা

ডিভিসির ছাড়া জলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্লাবিত হল আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। খানাকুল ও পুরশুড়া বিধানসভার বিভিন্ন গ্রামে জল ঢুকে পড়ে।

ডিভিসির ছাড়া জলে আরামবাগের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত, ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খানাকুল: ডিভিসির ছাড়া জলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্লাবিত হল আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। খানাকুল ও পুরশুড়া বিধানসভার বিভিন্ন গ্রামে জল ঢুকে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তায় জল উঠে গিয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানশিউলি পর্যন্ত বাস যোগাযোগ আপাতত বন্ধ। খানাকুলের বিভিন্ন জায়গায় নৌকা চলতে দেখা যায়। একইসঙ্গে মারোখানা এলাকায় যাতায়াতের জন্য একটি ট্রাক্টরও দেওয়া হয়। তবে এদিন বিকেলের পর থেকে মুন্ডেশ্বরী, দামোদরের জলস্তর কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতির জেরে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আমন ধান সহ সবজি চাষ। এদিন হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান। 

Advertisement

অন্যদিকে, এদিন দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভার্চুয়ালি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, তিনি এলাকার পরিস্থিতির খোঁজ নেন। মানুষের পাশে প্রশাসনকে থাকার বার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতি দেখে অন্তত আগামী পাঁচ দিনের জন্য দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী বিলি করার কথাও বলেছেন। বাঁধের পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখতে বলেছেন। জেলাশাসক বলেন, কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তবে আশা করছি এক-দু’ দিনের মধ্যে জল কমে যাবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত মনিটরিং করছেন। এদিন আমরা সব রিপোর্ট দিয়েছি। বাঁধগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেচদপ্তরকে বলেছি। প্রশাসন জানিয়েছে, আরামবাগ মহকুমায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৩৭ জনকে সরানো হয় নিরাপদ জায়গায়। খানাকুল ১ ব্লকে ছয়টি, আরামবাগে একটি ও গোঘাট ২ ব্লকে একটি ত্রাণশিবির চলেছে। 
খানাকুলের মারোখানা পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। সেইসব এলাকার বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। যাতায়াতের অসুবিধা হচ্ছে। জল জমেছে জগৎপুর, রাজহাটি ২ পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামেও। নদীগুলি ফুঁসতে থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। এরইমধ্যে খানাকুলের বালিপুর অঞ্চলের ছত্রশাল এলাকার হরিনাখালী নদীর উপর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। বছর দুয়েক আগে সেখানে হানা হয়েছিল। সেই অংশ দিয়েই নদীর জল গ্রামে ঢুকছিল। পরিস্থিতি দেখে গ্রামের বাসিন্দারাই বালির বস্তা দিয়ে তার মেরামত করেন। অন্যদিকে, গণেশপুরে কাঠের সেতু অক্ষত রাখতেও রাতপাহারা দেন অনেকে। এছাড়া একাধিক, স্কুল বিল্ডিংয়ে জল ঢুকে গিয়েছে। নলকূপগুলি প্লাবনের জলে ডুবে যায়। ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে গাড়িতে করে জলের পাউচ বিলি করা হচ্ছে। তবে ত্রাণ বিলি নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। 
কৃষ্ণনগরের বিনোদ চোঙদার বলছেন, কানা দ্বারকেশ্বর খালের জলে রামমোহন মহাবিদ্যালয় চত্বর সহ একাধিক ঘরবাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। এদিন দুপুর নাগাদ জল বাড়তে থাকায়। 
খানাকুলের জাকড়ি এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দা শ্রীমন্ত প্রামানিক বললেন, বাঁধের উপরেই মানুষজনের বাস। নদী এখন ফুলে ফেঁপে রয়েছে। তাই যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেইজন্য আগাম ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ