লখনউ, ২৭ সেপ্টেম্বর: অতিভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ। আর সেই জেরে একাধিক বৃষ্টিজনিত ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১৭ জন। এই রাজ্যের মোট ৬৩টি জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় আচমকা বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে প্রশাসন সূত্রে।
জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আর তার জেরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক এলাকা। প্রবল বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ায় নষ্ট হয়েছে ফসল এবং ১১৭টি বাড়ি। মাটির দেওয়াল ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও পাঁচজনের এবং আহত হয়েছেন ১৪ জন। বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে দুমড়ে মুচরে গিয়েছে একাধিক বাড়ি। সেই জেরে মৃত্যু হয় অনেকের। পাশাপাশি আহত হন অনেকে। ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবাও। পাশাপাশি ব্যাহত হয় যানচলাচলও।
আবহাওয়া দফতর মারফত জানা গিয়েছে, গতকাল সকাল পর্যন্ত ২১ ঘণ্টায় লখনউয়ে ১২৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বাঁদায় ২২৭.৬, ফতেহগড়ে ২২৪, বাহরাইচের নানপাড়ায় ২১৭, হরদইয়ে ২১৪, হামিরপুরে ২১০ এবং কান্নৌজে ২০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা গিয়েছে। মধ্য ও তরাই অঞ্চলের কয়েকটি জলাধার এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যার হালকা থেকে মাঝারি ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রশাসনের তরফে একাধিক জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দমকল, পিএসি, সিভিল ডিফেন্স, হোমগার্ডদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ১০৭০ নম্বরে ত্রাণ হেলপলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।