নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর জেরে তাঁর লিভ ইন পার্টনারকে গ্রেপ্তার করল রিষড়া থানার পুলিশ। সঙ্গে প্রেমিকের বাবাও গ্রেপ্তার হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে রিষড়ার রেললাইন সংলগ্ন একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম প্রিয়াঙ্কা ভৌমিক (২৫)। আদতে কোন্নগরের বাসিন্দা তরুণী তাঁর প্রেমিক সৌমেন রায়ের সঙ্গে ওই বহুতলে থাকতেন। প্রিয়াঙ্কা বেসরকারি সংস্থার কর্মী ছিলেন। সৌমেন রেলকর্মী বলে শোনা গিয়েছে। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সৌমেনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজে পড়ার সময় থেকেই প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সৌমেনের সম্পর্ক। পরে তাঁরা লিভ-ইন করতে শুরু করেন। সম্প্রতি জানা যায় যে, সৌমেন বিবাহিত। সে বিয়ের কথা গোপন করে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিল। এরপরেই দু’জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, সৌমেন এরপর প্রিয়াঙ্কার উপরে শারীরিক অত্যাচার শুরু করে। এর জেরেই প্রিয়াঙ্কা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মৃতার বাবা বিশ্বনাথ ভৌমিক বলেন, আমার মেয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছিল। তার জেরে তাঁর উপরে নির্যাতন করছিল সৌমেন। মঙ্গলবার রাতে ওর বাবা আমাকে ফোন করে জানায়, প্রিয়াঙ্কা আত্মহত্যা করেছে। আমি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমার মেয়ের হত্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত সৌমেনকে আদালতে হাজির করে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বাবাকে বিচারক জেল হেপাজত দিয়েছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হচ্ছে।



