নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে গত ৩ মাসে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতাধীন ১০ লক্ষ ৪৬ হাজার ২২৪টি রেশন কার্ড (১ লক্ষ ৪২ হাজার অন্ত্যোদয় কার্ডসহ) বাতিল করা হয়েছে। সেই জায়গায় নতুন ১০ লক্ষ ৭২ হাজার ৭২৮টি এই শ্রেণির কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। রাজ্য খাদ্যদপ্তর থেকে সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান সংক্রান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রককে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের সুবিধা প্রতি রাজ্যে কত মানুষ পাবে, তার কোটা ২০১৩ সালে কেন্দ্র নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। সেটাই এখনও অপরিবর্তিত আছে। পশ্চিমবঙ্গে এই কোটা হল প্রায় ৬ কোটি ২ লক্ষ। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্য যে রিপোর্ট পাঠিয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্ন যোজনা প্রকল্পে রাজ্যে এখন মোট রেশন গ্রাহকের সংখ্যা ৬ কোটি ৪১ হাজার ৫৩৩। রাজ্য প্রকল্প থেকে গ্রাহকদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কার্ড দিয়ে দ্রুত শূন্যস্থান পূরণ করা হয়েছে। এতে খাদ্যে ভরতুকি খাতে রাজ্য সরকারের নিজস্ব খরচ কমেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার গত কয়েক মাস ধরে গোটা দেশে প্রায় ৬ কোটি সন্দেহজনক রেশন কার্ড গ্রাহককে চিহ্নিত করে তাদের সম্পর্কে তদন্ত করতে বলে রাজ্যকে। বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় সরকার এই রেশন গ্রাহকদের চিহ্নিত করেছিল। মৃত ব্যক্তি, আর্থিকভাবে সম্পন্ন, আয়করদাতা, গাড়ির মালিক, একাধিক কার্ড থাকা ছাড়া আরও কিছু মাপকাঠির ভিত্তিতে এই চিহ্নিতকরণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু’দফায় মোট প্রায় ২৪ লক্ষ এমন রেশন গ্রাহকের তালিকা পাঠানো হয়েছিল।
দেখা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার যাচাই করলেও কেন্দ্রের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী অর্ধেক কার্ড বাতিল হয়নি এখনও। কয়েক মাস আগে প্রচুর রেশন গ্রাহকের কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় হইচই শুরু হয়। তারপর কিছুদিনের মধ্যে রাজ্য সরকার কার্ডগুলি ফের চালু করে দেয়। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, গ্রাহকদের না জানিয়ে তাঁদের কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ায় অনেকেই রেশন তুলতে এসে খাদ্য না পেয়ে হইচই শুরু করেন। গ্রাহকদের ব্যক্তিগতভাবে কারণ জানিয়ে কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। বাদ পড়া বৈধ রেশন গ্রাহকদের রাজ্য প্রকল্পে কার্ড দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত প্রকল্পের আরও রেশন কার্ড বাতিলের সম্ভাবনা আছে বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এখনও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।



