Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাকা-কাকিমারা বাংলাদেশি! দাবি যুবকের, তদন্তে প্রশাসন

নিজের আত্মীয়দেরই বাংলাদেশি বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করছেন এক ব্যক্তি। তাঁর নাম সুদীপ সর্দার (নাম পরিবর্তিত)। এমনকী বাংলাদেশে ভোটার লিস্টে যে আত্মীয়দের নাম রয়েছে, তার প্রমাণও দিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

কাকা-কাকিমারা বাংলাদেশি! দাবি যুবকের, তদন্তে প্রশাসন
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নিজের আত্মীয়দেরই বাংলাদেশি বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করছেন এক ব্যক্তি। তাঁর নাম সুদীপ সর্দার (নাম পরিবর্তিত)। এমনকী বাংলাদেশে ভোটার লিস্টে যে আত্মীয়দের নাম রয়েছে, তার প্রমাণও দিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। অভিযোগকারীর দাবি, যেন তাঁর আত্মীয়দের ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। যা শুনে কিছুই হতবাক হয়েছিলেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। এমনই অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায়। নিজের পরিবারের সদস্যদের কেন বাংলাদেশি বলছেন, কেউ কেনই বা চাইবেন যে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভোট দেওগা থেকে বঞ্চিত করতে? এরকম নানা প্রশ্নের উদয় হয় প্রশাসনের আধিকারিকদের মনে। তদন্তে নেমে তাজ্জব বনে যান তাঁরা। জানা যায়, পূর্বপুরুষের সম্পত্তি থেকে শরিকদের বাদ দিতে নিজের আত্মীয়দের বাংলাদেশি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভোটার লিস্ট থেকে শরিকদের নাম বাদ দিতে পারলে পুরো সম্পত্তিই হাতিয়ে নেওয়া যাবে, এমন পরিকল্পনা ছিল অভিযোগকারীর। যদিও এমনটা সম্ভব কি না, সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এনিয়ে নদীয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) প্রলয় রায়চৌধুরী বলেন, এরকম একটা অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তদন্ত করছি। পরিবারের সকলের কথাই শোনা হচ্ছে।  অভিযোগকারীর বাড়ি বাদকুল্লা এলাকায়। সম্প্রতি তিনি জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানান যে, তাঁর কাকার সম্পর্কের আত্মীয়রা বাংলাদেশি। তাই তাদের যেন কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। প্রশাসন তদন্ত করে জানতে পারে যে, ১৯৫৫-৫৬ সাল নাগাদ অভিযোগকারীর দাদু বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। সেই সময়ে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় জায়গাতেই জমি কিনে রেখেছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে তাঁর কয়েকজন ছেলে বাংলাদেশে ছিলেন এবং কয়েকজন ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জে। সেই সময়ে নিয়মিত তাঁদের যাতায়াত ছিল। পরবর্তীকালে পরিবারের সকলেই ভারতে চলে আসেন। এবার যাঁরা পরে ভারতে চলে এসেছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘যত দূর জানা গিয়েছে কেউ মারা গেলে তবেই ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয় বাংলাদেশে। তার জন্য নির্দিষ্ট অভিযোগ করতে হয়। তবে আমাদের দেশে কেউ জায়গা পরিবর্তন করলে, পূর্ববর্তী জায়গার ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।’ এবার বাংলাদেশের সেই তালিকা জোগাড় করেই, নিজের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সুদীপ সর্দার (নাম পরিবর্তিত)।  জানা গিয়েছে, মোট ৯ জনকে বাংলাদেশি বলা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের ভোটার তালিকায় নাম নেই এবং পাঁচজন দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত। তাই তাঁদের নাম সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি তিনজন, অভিযোগকারীর কাকা, কাকিমা, খুড়তুতো ভাই কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভাতেই থাকেন। তাঁরা প্রশাসনের শুনানিতেও হাজির ছিলেন। তাঁদেরও বাদ দেওয়ার আবেদন করছেন অভিযোগকারী। তদন্তকারী এক অফিসারের কথায়, অভিযোগকারী সম্পত্তি থেকে শরিকদের বঞ্চিত করতেই এমনটা করছেন। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ