মুম্বই: রাস্তায় বারবার থমকাচ্ছে গাড়ি। বনেটে হাত চাপড়ে এদিক-ওদিক থেকে কাতারে কাতারে লোকজন যোগ দিচ্ছেন মিছিলে। রবিবার বেলা বাড়তেই মুম্বইয়ের মেট্রো সিনেমা চত্বরে পা ফেলার জায়গা নেই। সবাই এগিয়ে চলেছে আজাদ ময়দানের দিকে। যতদূর চোখ যায়, শুধু সাদা টুপি আর জাতীয় পতাকা। কারও হাতে প্লাকার্ড। কেউ শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’ তুলে ধরে গলা ফাটাচ্ছেন। আমচি মুম্বই, জয় মারাঠা, জয় ভবানী-জয় শিবাজি স্লোগানের মাঝেই ক্রমে জোরালো হচ্ছে নির্বাচন বয়কটের ডাক। গণপতি নিরঞ্জনের পর এমন ভিড় দেখেনি মুম্বই। এবার লক্ষ্য জ্ঞানেশ ‘বিসর্জন’।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এই মুম্বই থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি তুলেছে ককরোচরাও। মুম্বইয়ের পর এবার দিল্লিতে ‘যন্তরমন্তর ২.০’র ডাক দিয়েছে তারা। তার আগেই সিজেপি নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে রবিবার আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন সৌরভ দাস। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘অভিজিৎ, আশুতোষ, রত্না, আমি সহ সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারির পরিকল্পনা করছে সরকার। জেলে যেতে হলেও আমরা তৈরি। কিন্তু যদি সরকার ভাবে, এই ধরনের কোনো স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে, তাহলে ভুল হচ্ছে। যুবসমাজ জেগে উঠেছে। তারা বরদাস্ত করবে না।’
এদিন মহারাষ্ট্রেও উদ্ধব থ্যাকারে ও রাজ থ্যাকারের ডাকে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নাম ‘গর্জনা’। সকাল থেকে সেখানে যোগ দেন উদ্ধবপন্থী শিবসেনা, মহারাষ্ট্র নবর্নিমাণ সেনা, এনসিপি (এসপি) ও কংগ্রেস তথা মহা বিকাশ আঘাড়ি জোটের কর্মী-সমর্থকরা। আর তাতেই উত্তাল পরিস্থিতি। এই জনপ্লাবন দেখে আপ্লুত ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর বার্তা— ইট’স নাউ অর নেভার। বিক্ষোভকারীদের সাধুবাদ জানাই। মুম্বই পথে নেমেছে। সমস্ত ভারতীয়র একসঙ্গে গর্জে ওঠা উচিত। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে মহারাষ্ট্র পুলিশের ফারাকও তুলে ধরেছেন দিপকে।
এদিন মঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছেন মহারাষ্ট্র নবর্নিমাণ সেনার প্রধান রাজ থ্যাকারে। তাঁর কটাক্ষ, ‘ক্ষমতায় কে থাকবে, তা নির্বাচন কমিশন নয় আমজনতা ঠিক করবে। বিজেপি জানে ওদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আছে। তাই যা খুশি করতে পারে।’ অবিলম্বে এসআইআর বাতিলের দাবি জানান তিনি। তাঁর দাবি, ইভিএম নয় ব্যালট পেপারে ভোট করতে হবে। সরব উদ্ধব থ্যাকারেও। তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার তো বিজেপির হাতিয়ার। ওরা অযোধ্যার রামমন্দির থেকে প্রণামি চুরি করেছে। একইভাবে ভোট ও বিধায়কও চুরি করেছে। মানুষ আজ শান্ত। একবার যদি তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, তাহলে মুহূর্তে এই ক্ষমতার মসনদ পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।’ রবিবার বিক্ষোভকারীরা মহাত্মা গান্ধী রোডে মেট্রো সিনেমা থেকে মিছিল শুরু করেন। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের কাছে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (বিএমসি) সদর দপ্তরে এসে মিছিলটি শেষ হয়। শিবসেনার শীর্ষনেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাট, এনসিপি(এসপি) নেতা শশীকান্ত সিন্ধে সহ অন্যরা। অন্যদিকে, ৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনের মধ্যে তিন মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার নিন্দা করেছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া।