


সংবাদদাতা, দিনহাটা: চোরাচালানে মদত দিচ্ছে বিএসএফ। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় জিরে পাচারের ভিডিও পোস্ট করে এমনটাই দাবি করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ।
দিনহাটা বিধানসভার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। কাঁটাতারের ওপারে পাচার করতে জমা করে রাখা হয়েছে বাজারের থলেতে জিরের প্যাকেট। বিএসএফের সহায়তায় কাঁটাতার পেরিয়েছে ওসব, দাবি মন্ত্রীর। ওই ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, দিনে তিনবার গেট খোলা হয়। বিএসএফের প্রহারায় বাজারের থলেতে করে জিরে পার করা হয়। বাঁশ বাগানের আড়ালে গর্ত খুঁড়ে সেই জিরে রাখা হয়েছে। ঘনিষ্ঠ স্থানীয়দের বিএসএফ এভাবে পাচারের সুযোগ দেয়। অন্য সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এদিকে ওই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে বিএসএফের একটি সূত্র জানিয়েছে। বাহিনীকে বদনাম করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে বলে বিএসএফের দাবি। মন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিওর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, ওই ভিডিওতে পাচারের কোনও দৃশ্য দেখানো হয়নি, শুধুমাত্র একটি গর্তে দুই থলে জিরে রাখার ঘটনাটি রয়েছে। বিএসএফকে বদনাম করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করেছে অসাধুচক্রের লোকেরা। রাত জেগে বিএসএফ সীমান্ত প্রহরা দেওয়াতেই সুরক্ষিত ভারত।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ থেকে পাচার, বিএসএফের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া কোনওভাবেই এসব সম্ভব নয়। ভিডিওতে সেটা ফের প্রমাণিত হল। সীমান্তে নিজেদের ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমে পাচার ও অনুপ্রবেশ করায় বিএসএফ। দিনহাটা বিধানসভার সীমান্তবর্তী এলাকার ঘটনা এটি। কোচবিহার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিরাজ বসু বলেন, বিএসএফের কারণেই সুরক্ষিত আজ আমরা। কাঁটাতারের ওই পারে বাঁশ বাগানের গর্তে জিরে রেখেছে অসাধু ব্যক্তিরা। বিএসএফকে বদনাম করার জন্যই ওই ভিডিও বানানো। তৃণমূলের মন্ত্রী সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেশের সীমান্ত রক্ষীদের অসম্মান করছেন।
বিএসএফের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের এক শীর্ষকর্তা বলেন, অতীতে বিএসএফের সঙ্গে গণ্ডগোলে জড়িয়েছিল ভিডিও বানানো ওই ব্যক্তির পরিবার। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মিথ্যা ভিডিও বানানো হয়েছে। ওই এলাকায় কাঁটাতারের পাশে বাঁশ বাগানে এইরকম কোনও গর্তই নেই। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি ভুয়ো ভিডিও বানানোর ঘটনা স্বীকার করেছে।