নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামীকাল, মঙ্গলবার রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। ভোট নেওয়া হবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে ৪ মে। তার পাঁচমাসের মাথায় দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হতে চলেছে। বিষয়টি রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, একদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, গত পাঁচমাসে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি বিজেপি সরকার। এর সবচেয়ে বড়ো উদাহারণ বহু যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি সরকার দাবি করছে, তাদের আমলে প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে এবং ধরা পড়ছে তৃণমূল জমানার ভূরি ভূরি দুর্নীতি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনটি বিজেপি জিতেছিল। এবার আরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তারা জয়ী হবে! এমনটাই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী কত ভোট পাবেন, সেদিকে কৌতূহল রাজনৈতিক মহলের। ভোটপ্রচারের ময়দানে নামতেই গ্রেপ্তার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থীকে। পরে অবশ্য হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস কত ভোট টানতে পারে, সেটাই বিরাট পরীক্ষা নেতৃত্বের কাছে। বিজেপির টার্গেট হল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর আসনে পদ্মফুল ফোটানো। রেজিনগরে আজ পর্যন্ত বিজেপি জেতেনি। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে বিজেপি নেতাদের বাড়তি নজর রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হলে বিজেপি তার সুফল পেয়ে যাবে। অনুমান রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, আগামীকালের উপনির্বাচনে দুই তৃণমূলের লড়াইয়েও—কে কাকে ছাপিয়ে যাবে তাও দেখতে চায় সকলে। কেননা তৃণমূল এখন মমতা ও ঋতব্রত—দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত। ফলে এই উপনির্বাচন থেকে আরও জানা যাবে, কোন তৃণমূলের প্রতি কত মানুষের সমর্থন রয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং আইএসফের লড়াইয়ে—কে কার থেকে বেশি ভোট টানতে পারে।



