নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: নিমন্ত্রণ বাড়িতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সন্দেশখালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের স্করপিওর ধাক্কায় মৃত্যু হল দুই টোটোযাত্রীর। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দু’জন। বুধবার দুপুরে বাসন্তী হাইওয়ের ন্যাজাট থানার বয়ারমারি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। টোটোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায় স্করপিওটি। আহত মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম মুজিবুর রহমান (৪৭)ও তাঁর দিদি মহিমা বিবি (৫০)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি থেকে কলকাতার দিকে আসছিল স্করপিওটি। গাড়িটি সন্দেশখালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতর। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না। চালক একাই ছিলেন। বয়ারমারির কাছে উলটোদিক থেকে আসা একটি টোটোর সঙ্গে স্করপিওটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে টোটো ও স্করপিওটি রাস্তার পাশে পুকুরে পড়ে যায়। টোটোতে থাকা চার যাত্রী গুরুতর জখম হন। টোটোচালক নাজিবুর এবং তাঁর বোন মহিমা বিবিকে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, নাজিবুরের স্ত্রী মাহমুদা বিবি ও মেয়ে মমতাজ খাতুন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে মাহমুদার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থানার দেবীপুর এলাকায়। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাসন্তী হাইওয়েতে যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি আউটপোস্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ যানজট সামাল দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ক্রেনের সাহায্যে পুকুর থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্করপিও ও টোটোকে উদ্ধার করা হয়। এদিন বিকালে দুর্ঘটনাস্থলে যান সন্দেশখালির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেন। আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটির চালক নিখোঁজ। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, আমি আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের পাশে থাকব। স্থানীয় বাসিন্দা সরফরাজ মল্লিক বলেন, বাসন্তী হাইওয়ে যথেষ্ট চওড়া। তারপরও কীভাবে স্করপিও ও টোটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হল, তা বোঝা যাচ্ছে না।



