অভিষেক পাল, রেজিনগর: রেজিনগর বিধানসভাকে দু’টি ভাগে ভাগ করেছে ভাগীরথী। মঙ্গলবার উপনির্বাচনে নদীর দু’পাড়ে দুই রকমের ভোট চিত্র দেখা গেল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পঞ্চায়েতগুলি নিয়ে বেশি চিন্তা ছিল বিজেপির। আর সেদিকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে উঠল ভোট লুটের অভিযোগ। অপরদিকে, হিন্দুপ্রভাবিত এলাকায় ভোট তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩১৫টি বুথে ভোটদানের হার ছিল ৮০.০৭ শতাংশ।
এদিন সকাল থেকেই রেজিনগর থানা এলাকায় বিভিন্ন বুথে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দিয়ে ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। কোথাও কোথাও আবার ভোটারদের আঙুলে ছাপ দিয়ে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে সরব হন কাপাসডাঙার কয়েকজন ভোটার। তবে ভাগীরথীর এপারে শক্তিপুরে বেশ কিছু বুথে বেলা পর্যন্ত লাইন দিয়ে মানুষকে ভোট দিতে দেখা যায়। নির্বাচন চলাকালীন কোথাও অশান্তির খবর না এলেও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে প্রার্থীরা ভোট ময়দান ছেড়ে দেন।
দুপুরে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ পৃথকভাবে অভিযোগ করেন, বেশির ভাগ বুথ থেকে তাঁদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ হুমায়ুন কবীরের ছেলে অর্থাৎ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদেরও।
এদিন সকালেই ভোট লুট হচ্ছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন হুমায়ুন। পরে নির্বাচনি বিধিভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। সন্ধ্যায় তাঁকে ছাড়া হয়। সফিউজ্জামান আবার দুষেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে। তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে হারাতে বিজেপি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। আজ সেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তাঁর এমন পরিণতি।’ পরক্ষণেই গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থীর সংযোজন, ‘অনেক বুথে গিয়ে দেখেছি, আমাদের এজেন্টকে বের করে দিয়েছে। কেবল বিজেপির এজেন্ট আছে।’
মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল রেজিনগরে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। রবিউল বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহশন হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘স্বৈরাচারী শাসকে’র ভূমিকা পালন করা কি নির্বাচন কমিশনের কাজ? পুলিশ পর্যবেক্ষক কোথায়? এত কেন্দ্রীয় বাহিনী কী হবে, যদি মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগই না করতে পারে। এলাকার ১৪টি অঞ্চলের ৩১৫টি বুথের বিরোধী দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের ঢুকিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় বুথে ছাপ্পা ভোট করা হয়েছে। এসবে পুলিশ মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ভোট হয়ে গিয়েছে বলে ভোটারদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ‘হিটলারি শাসন’ দেখল রেজিনগরের মানুষ।
নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে দুপুরে রেজিনগর থানার সামনে ধরনায় বসেন কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি। জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন অধীর চৌধুরী। কাফি বলেন, পুলিশের ভূমিকা লজ্জাজনক। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য যা যা করার, সব করেছে। কোথাও এজেন্ট বসতে দেওয়া হল না। দেদার ভোট লুট হল।
বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, আগে যারা ভোট লুট করত, তারা এদিন পারেনি। তাই ভোট লুটের কথা বলছে। মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে।