নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি হাসপাতালের ভিতরে জনপ্রতিনিধির স্বামী ও শাসকদলের কর্মীদের দ্বন্দ্বে রীতিমতো তুলকালাম চলল রাতভর। মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলমাল হয় শনিবার রাতে। তার জেরে দুই গোষ্ঠীর দু’জন করে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বউবাজার থানার পুলিস।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ। টেরিটি বাজারের সামনে ইফতার পার্টি চলছিল। সেখানে হাজির হন কলকাতা পুরসভার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলার আয়েশা কানিজের স্বামী ইরফান আলি তাজ। ওই ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাঁধে ওই পার্টিতে। অভিযোগ, কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারদের একাধিক অবৈধ নির্মাণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেন ওই তৃণমূল কর্মী। ইফতার পার্টিতে সেই কাজ করতে নিষেধ করেন নির্দল কাউন্সিলারের স্বামী। প্রাথমিকভাবে দু’গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ হয়। তার জেরে আংশিক আহত হন কাউন্সিলারের স্বামী ও তাঁর সঙ্গীরা। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসার জন্য যান তাঁরা। অভিযোগ, সেখানে ফের হামলা চালায় পাল্টা গোষ্ঠীর লোকজন। দুই গোষ্ঠীর আরও লোক জড়ো হয় সেখানে। আতঙ্ক ছড়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে অন্যান্য রোগীদের মধ্যে। হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল কলেজের আউটপোস্টে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বউবাজার থানার পুলিসও। চারজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করে। এ প্রসঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ অঞ্জন অধিকারী বলেন, ঘটনার সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ কোনওভাবে জড়িত নয়। ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে গোলমাল হয়। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস এসে আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, মেডিক্যাল কলেজে এই মারধরের ঘটনা চলাকালীন বউবাজার থানার এক কনস্টেবল পড়ে যান। তিনি মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করছিলেন। তাঁকে থানার গাড়িতে চাপিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। লালবাজার জানিয়েছে, এদিনই চাকরি থেকে ওই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।