Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে ফের প্লাবনের আশঙ্কা ঘাটালে

গত দু’ দিন ধরে বিরামহীন বৃষ্টির জেরে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা ঘাটাল মহকুমায়। লাগাতার বর্ষণে মহকুমার প্রধান নদী শিলাবতী, কংসাবতী, রূপনারায়ণ এবং ঝুমি নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে।

টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে ফের প্লাবনের আশঙ্কা ঘাটালে
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: গত দু’ দিন ধরে বিরামহীন বৃষ্টির জেরে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা ঘাটাল মহকুমায়। লাগাতার বর্ষণে মহকুমার প্রধান নদী শিলাবতী, কংসাবতী, রূপনারায়ণ এবং ঝুমি নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। নদীগুলির জল বাড়ায় নীচু এলাকাগুলিতে জল ঢোকার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে ঘাটাল মহকুমা প্রশাসন।  ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তেই নদ-নদীর জলস্তর বিপদসীমার অনেক নীচে দিয়ে প্রবাহিত হলেও যে ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তার ফলে আজ শনিবার দুপুর থেকেই মহকুমার নদনদীগুলি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি সংলগ্ন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পশ্চিমাঞ্চল থেকে নেমে আসা জলের কারণে নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ঝুমি ও শিলাবতী নদীর নীচু এলাকাগুলির বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলের তলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘাটাল পুরসভার নীচু ওয়ার্ডগুলি ছাড়াও ঘাটাল, দাসপুর এবং চন্দ্রকোণা বিধানসভা এলাকার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চলে জলমগ্ন হওয়ার ভয় তাড়া করছে বাসিন্দাদের।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিক যোগাযোগ রাখতে। পরিস্থিতি তদারকি করতে ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং জল বিশুদ্ধিকরণের ট্যাবলেট। পাশাপাশি, নদী তীরবর্তী বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট করা হচ্ছে একাধিক ফ্লাড শেল্টার ও বহুমুখী ত্রাণ শিবির। নদীর বাঁধগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহকুমা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনো পরিবারকে উদ্ধারের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কিন্তু যে ভাবে জল বাড়ছে, তার ফলে আজ শনিবার থেকেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করবে। সেজন্য সমস্ত ব্লকের বিডিও এবং পঞ্চায়েত প্রধানদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
বন্যায় এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষতি না হলেও প্রবল বৃষ্টির ফলে দাসপুর-১ এবং দাসপুর-২ ব্লকের কয়েকটি মাটির বাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর এসেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ