আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেও কেমোথেরাপি হচ্ছে না, বিপাকে দুই ক্যানসার রোগী
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: আয়ুষ্মান কার্ড থাকার পরেও দু’জন ক্যানসার রোগী চিকিৎসা করতে পারছেন না। হলদিবাড়ি ব্লকের উত্তর বড়ো ও দক্ষিণ বড়ো হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর পরিবার তাই বিপাকে পড়েছে। 

Advertisement

দক্ষিণ বড়ো হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানপাড়ার বাসিন্দা বিমল বর্মনের গতবছর ক্যানসার রোগে ধর পড়ে। শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে প্রথম কেমো বিগত সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিয়ে করান। দ্বিতীয় কেমো আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দিয়ে দিলেও তৃতীয় কেমো ওই কার্ডে হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। কেমোর জন্য ১৫ হাজার টাকা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল বলে পরিবারটির দাবি। আয়ুষ্মান কার্ডে পরিষেবা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবরটি হলদিবাড়ির বিডিও’র দ্বারস্থ হয়েছিল সম্প্রতি। 
বিমল বর্মনের ছেলে দীপক বর্মন বলেন, প্রথম দিকে আমরা আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা পেলেও এখন নার্সিংহোম থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। কেমোর জন্য একবারে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের দেওয়া আয়ুষ্মান কার্ড থাকা সত্ত্বেও যদি বাবাকে এভাবে বিনা চিকিৎসায় ফিরে আসতে হয়, তবে কোথায় যাব। বাধ্য হয়ে বিডিও’কে অভিযোগ জানিয়েছি। 
অন্যদিকে, কয়েক মাস আগে উত্তর বড়ো হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ো হলদিবাড়ির এলাকার বাসিন্দা নাজিবুল রহমান ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তিনি বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করিয়ে আসেন। বাড়ি ফিরে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিয়ে এবং জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে আয়ুষ্মান কার্ড দিয়ে কেমো দিতে গেলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ টাকা দাবি করে। তাই এলাকাবাসীর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে কেমোর  চিকিৎসা করতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর প্রতিবেশী বিউটি বেগম জানান, নাজিবুল বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারী। যেটুকু জমি ছিল বিক্রি করে চিকিৎসা করেছেন। এখন ওঁর চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। আমরা সাহায্য করছি। আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেও তা দিয়ে কেন চিকিৎসা হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। একই কথা বলেন নাজিবুল রহমানও। তাঁর দাবি, আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেও পরিষেবা পাচ্ছি না। যদিও এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক লোপচা তামাং। • নাজিবুল রহমান। - নিজস্ব চিত্র।