নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’দিনের ব্যবধানে একই কায়দায় খুন হন দুই অ্যাপ ক্যাব চালক। পুলিশের দাবি, অবশেষে এই জোড়া রহস্যজনক মৃত্যুর কিনারা করা গিয়েছে। ডানকুনি থানা গ্রেপ্তার করেছে খুনের ঘটনায় জড়িত তিন অভিযুক্তকে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার পর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এই তিনজনের পরিচয় জানতে পারেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার রাতে মধ্যমগ্রামে অভিযান চালিয়ে মহম্মদ মণিরুল গাজি, মহম্মদ আরিয়ান মোল্লা ও শেখ সাহদাতকে ধরা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়ে তারা স্বীকার করে নেয় যে এই ‘সিরিয়াল কিলিং’-এ তারা যুক্ত রয়েছে। খুনের উদ্দেশ্য জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত বুধবার ট্যাংরার ডি সি দে রোডে এক অ্যাপ ক্যাবের মধ্যে মিলেছিল গাড়ির মালিক তথা চালকের দেহ। ভগবান প্রসাদ গুপ্তা নামে ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এই খুনের তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, ডানকুনিতে দিল্লি রোডের ধারে এক অ্যাপ ক্যাব চালকের দেহ মিলেছে। তাঁকেও একই কৌশলে মারা হয়েছে। রামজশ কৈরি নামে ওই চালকের গাড়ি উদ্ধার হয় পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে। ডানকুনি থানা তদন্তে নেমে এয়ারপোর্ট থেকে ডানকুনি পর্যন্ত সব মিলিয়ে একশোর বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তা থেকে তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়। কলকাতায়ও ওই তিনজনের ছবি ধরা পড়ে। মধ্যমগ্রামে খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সেখানকার বাসিন্দা মণিরুল ও সাহাদাত অতীতে ছিনতাই ও লুট করেছে। তাদের মোবাইল নম্বর হাতে আসে পুলিশের। তার টাওয়ার লোকেশেন দেখে জানা যায়, দু’টি ঘটনার দিনই এই তিনজনের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ছিল ঘটনাস্থলে। দু’টি গাড়ির ভিতর তাদের উপস্থিতির প্রমাণও মেলে মোবাইল প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, এরাই খুনে জড়িত। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে ধরা হয় মণিরুল ও সাহাদাতকে। তাদের জেরা করে মধ্যমগ্রাম থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় আর এক অভিযুক্ত আরিয়ানকে।
ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, দু’টি অ্যাপ ক্যাবে তারা যাত্রী সেজে উঠেছিল। রামজশ কৈরির গাড়িতে বিরাটি থেকে ওঠার পর গাড়িটি বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, দিল্লি রোড হয়ে বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হয়। আর ট্যাংরার ঘটনায় ভগবানের গাড়িতে আততায়ীরা ওঠে মধ্যমগ্রাম থেকে। সেই গাড়িটিও একইভাবে ঘুরিয়ে বাইপাস হয়ে তোপসিয়া কানেক্টর থেকে ট্যাংরায় নিয়ে আসে তারা। দু’জনকেই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে সোনার চেন-আংটি, নগদ টাকা লুট করে। সামান্যতম বাধা পাওয়ায় দুই চালককেই পিছনের সিটে নিয়ে এসে পা দু’টি বেঁধে দেয়, যাতে ছটফট করতে না পারে। তারপর খুন করে। ধৃতদের দাবি, খুন করে মজা পাওয়া যাবে বলেই একই ঘটনা ঘটায় তারা! এরপর দু’টি গাড়ি পার্ক সার্কাস ও ট্যাংরা এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে অন্য গাড়ি ধরে মধ্যমগ্রাম চলে আসে তারা। গাড়িটি কে চালিয়ে আনে এবং খুনের পিছনে আর কোনো কারণ আছে কি না, জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।



