Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ট্রাম্পের শুল্ক-ধাক্কায় অর্থনীতির সর্বনাশ, ধস নামবে কর্মসংস্থানেও, কেন্দ্রকে বার্তা শিল্পপতিদের

সঙ্কটে পড়তে চলেছে একঝাঁক পণ্যের উৎপাদন, রপ্তানি ও বাণিজ্য। আর সেটার অন্যতম প্রধান বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে। চাকরির বাজারে ধস নামবে।

ট্রাম্পের শুল্ক-ধাক্কায় অর্থনীতির সর্বনাশ, ধস নামবে কর্মসংস্থানেও, কেন্দ্রকে বার্তা শিল্পপতিদের
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সঙ্কটে পড়তে চলেছে একঝাঁক পণ্যের উৎপাদন, রপ্তানি ও বাণিজ্য। আর সেটার অন্যতম প্রধান বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে। চাকরির বাজারে ধস নামবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্প্রতি ঘোষিত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের ধাক্কায় শুধু বহু সেক্টর নয়, কার্যত গোটা অর্থনীতিরই সর্বনাশ হবে। এমনই আশঙ্কা ভারতের শিল্পপতিদের। সোমবারই রাশিয়া থেকে তেল কেনা ইস্যু তুলে ধরে সেই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর নতুন হুমকি, ‘ভারতের উপর শুল্কের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করব।’ এতে যথেষ্ট আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিকারী সংস্থার সংগঠনগুলি। শুধু তারা নয়, তাদের সম্মিলিত সংগঠনের পক্ষ থেকে এদিনই বার্তা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রকে—সরকার এখনই কিছু একটা বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবুক। এক-দু’টি নয়, একঝাঁক সেক্টর প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে।

Advertisement

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আরোপ করা হবে এই নয়া আমদানি শুল্ক। অর্থাৎ ভারত থেকে আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে হলে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে দিতে হবে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক। এতে রপ্তানি ধাক্কা খাবে। অর্থনীতিতে বড়সড় আঘাত আসবে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি ফের শিখরে ওঠার বড়সড় সম্ভাবনা। এর পাশাপাশি বণিক ও শিল্পমহলের পক্ষ থেকে যে চরম আতঙ্কের বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারকে, সেটা হল, কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়া। কারণ ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের জেরে যে বিপুল লোকসানের মুখে পড়বে ভারতীয় সংস্থাগুলি, তার প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া হল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া। তাহলে আর কারখানা ও উৎপাদন ইউনিটে সমসংখ্যক কর্মী কেন রাখবে শিল্পসংস্থা? সর্বাগ্রে কোপ পড়বে তাদের উপর। শুরু হবে কর্মীছাঁটাই।
এখনও পর্যন্ত ভারত ও মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। কবে হবে, সেটাও অনিশ্চিত। কিন্তু তার আগেই ট্রাম্প ভারতের উপর এই শুল্ক চাপিয়ে দিচ্ছেন। রপ্তানিকারী সংগঠনগুলির সঙ্গে এদিন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের বৈঠক হয়। সেখানে প্রধানত ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ইঞ্জিনিয়ারিং, সামুদ্রিক উৎপাদন, কৃষিজাত পণ্যের উপর গভীর প্রভাব পড়বে বলেই জানানো হয়েছে সরকারকে। সবথেকে বেশি সঙ্কটে রেডিমেড গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল। ভারতের মোট টেক্সটাইল রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশই যায় আমেরিকায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি সরকারি সহায়তা প্যাকেজের কথা ভাবা হয়েছে, যাতে কোনও বিশেষ উৎসাহ ভাতা দেওয়া যায়।
ট্রাম্পের সবথেকে বড় ধাক্কা হল, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের উপর কম আমদানি শুল্ক চাপানো। এই দেশগুলির সঙ্গেই টেক্সটাইল ও রেডিমেড গার্মেন্ট রপ্তানিতে সবথেকে বেশি প্রতিযোগিতা ভারতের। ২৫ শতাংশ শুল্কের কারণে ভারতের রপ্তানিকৃত জামাকাপড়ের দাম বেশি হবে আমেরিকায়। সুতরাং অন্য দেশগুলির পণ্যই মার্কিন মুলুকে বেশি করে প্রবেশ করবে। আর তাতে শুধু শিল্পমহল নয়, বিপদে পড়বে মেটিয়াবুরুজ থেকে সুরাতের সাধারণ খেটে খাওয়া বস্ত্রকর্মীও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ