ওয়াশিংটন, ২৬ সেপ্টম্বর: যুদ্ধ থামানোর দরজা খুলেছিল তেহরান। কিন্তু সেই দরজায় আপাতত তালা পড়ল! ইরানের তরফে দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই তেহেরানে ফের বোমা হামলা শুরু করতে পারে আমেরিকা এমনটাও সূত্রের খবর।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তেহরান। আমেরিকা প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যেই খুলে দেওয়া হবে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রেট অব হরমুজ। পাশাপাশি ফের শুরু হতে পারে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা। ইরানের প্রস্তাবের মূল শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং লেবানন-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতি। শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফেরানোর কথা জানিয়েছে তেহরান।
আরাঘচির বার্তা ছিল বেশ কড়া। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা যদি সত্যিই সমঝোতায় আসতে চায় এবং হরমুজ পুনরায় খুলতে চায়, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সবকিছু প্রস্তুত। তবে ইরান কোনও ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানোর কাছে মাথা নত করবে না। কিন্তু তেহরানের সেই প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি ফের ঘুরে যায়। ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে কোনওভাবেই সরে আসবে না-এমনটাই মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আশঙ্কা থেকেই তেহরানের উপর ফের সামরিক চাপ বাড়ানোর পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এদিন তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যেখানে ওই জলপথটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং লেখা হয়েছে 'ট্রাম্প স্ট্রেট' (Trump Strait)।
হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ এই প্রণালী। ফলে সেখানে ফের সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়ায় আটকে থাকবে না লের বাজার থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সবকিছুর উপরই তার প্রভাব পড়বে।