পরামর্শে আয়ুর্বেদিক চিকিত্সক ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ।
বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ যদি কোনো বিপত্তি ঘটে? তাই পরিস্থিতি সামলাতে ব্যাগে থাকুক দরকারি কিছু আয়ুর্বেদিক ওষুধ।
১. সিতোফলাদি চূর্ণ: আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত শ্বাসের সমস্যা, কাশি, হাত পা জ্বালা, অরুচিতে ১ চামচ সিতোফলাদি চূর্ণ মধু সহ মিশিয়ে আচারের মতো করে খেলে উপকারী।
২. চিত্রকাদি বটি: ঘুরতে বেরিয়ে হঠাৎ করে পেট ভার, অরুচি দেখা দিলে চিত্রকাদি বটি নামক ওষুধটি প্রাথমিক পর্যায়ে ফলপ্রসূ। ১ টি করে ট্যাবলেট দিনে দু’বার উষ্ণ গরম জলের সঙ্গে খেতে হবে। তবে উচ্চ রক্তচাপ ও আলসারের রোগীর ক্ষেত্রে না নেওয়াই শ্রেয়।
৩.কুটজ ঘন বটি: ডায়ারিয়া, আমাশার সমস্যা, ইরিটেবল বাওল সিনড্রোম, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত ইত্যাদি পরিস্থিতিতে ১ থেকে ২টি করে ট্যাবলেট দিনে দু’বার নেওয়া যায়।
৪. জোয়ানের আরক: পেট ফাঁপা, অরুচি, খিদে না পাওয়া, হজম জনিত সমস্যা, পেট ব্যাথা ইত্যাদি ক্ষেত্রে জোয়ানের আরক বেশ উপকারী। এটি পাঁচ এম.এল পরিমাণ হাফ কাপ জলে মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার নেওয়া যায়।
৫. এরণ্ড তেল: বাচ্চা থেকে বড়দের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় একটু গুনগুনে জলের সঙ্গে এরণ্ড তেল সেবন করলে স্বাভাবিক মলত্যাগের বেগ আসে। ত্রিফলা ট্যাবলেট এক্ষেত্রে বিকল্প উপায়।
৬. অমৃত ধারা: এটি মূলত কর্পূর, পিপারমেন্ট, জোয়ান দিয়ে তৈরি। মাথা যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, নাক বন্ধ , পেটের ব্যথা, পেশির টান বিভিন্ন সমস্যায় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রয়োগ করা যায় এবং এটি তাৎক্ষণিক ভাবে বেশ কার্যকর।
৭.সুদর্শন ঘন বটি: ঘুরতে বেরিয়ে হঠাৎ করে জ্বর হলে প্রাথমিক পর্যায়ে লঘু আহার সেবনের পাশাপাশি সুদর্শন ঘন বটি নামক ওষুধটি ২টি করে দিনে দু’বার খেতে হবে।
তিনটি আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভেষজ সমাধান:
১. হঠাৎ কেটে গিয়ে রক্তপাত হলে, দূর্বার রস বা ঘৃতকুমারী ব্যবহার করুন, মুহূর্তের মধ্যে রক্তপাত বন্ধ হবে। ২. অসহ্য মাথাযন্ত্রণা নিরাময়ে পেঁয়াজের রস তিন ফোঁটা করে নাকে দিন। ৩. হঠাৎ আগুনে ছ্যাঁকা লাগলে বা পোড়া জনিত জ্বালাযন্ত্রণায় ঘৃতকুমারী পাতার জেলির মতো অংশ সরাসরি ব্যবহার করুন, মুহূর্তে আরাম পাবেন।
ভ্রমণের ক্ষেত্রে এসবের পাশাপাশি চেষ্টা করুন বিশুদ্ধ পানীয় জল, টাটকা খাওয়ার খাওয়া, বিরুদ্ধ আহার এড়িয়ে চলা, দীর্ঘক্ষণ মল মূত্রের বেগ আটকে যাত্রা না করা এবং অবশ্যই মানসিক ভাবে প্রফুল্ল থাকা।
লিখেছেন সায়ন মজুমদার



