Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় তৃণমূলের এগিয়ে থাকা বুথে বিবেচনাধীন ভোটারই বেশি, চক্রান্ত বলছে শাসক দল

বিগত লোকসভা ভোটে রাজ্যের বহু পুরসভায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সেইসব পুরসভার তৃণমূলের এগিয়ে থাকা ওয়ার্ডগুলিতেই ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার বেশি।

কাটোয়ায় তৃণমূলের এগিয়ে থাকা বুথে বিবেচনাধীন ভোটারই বেশি, চক্রান্ত বলছে শাসক দল
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বিগত লোকসভা ভোটে রাজ্যের বহু পুরসভায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সেইসব পুরসভার তৃণমূলের এগিয়ে থাকা ওয়ার্ডগুলিতেই ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার বেশি। যত সংখ্যক ভোটে লিড ছিল শাসকদলের, তার থেকে বিচারাধীন ভোটারের নাম বেশি। এতে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে শাসক শিবির। কাটোয়া, গুসকরা, দাঁইহাট পুরসভার তৃণমূলের এগিয়ে থাকা ওয়ার্ডগুলিতে বহু ভোটারের নাম রয়েছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায়। 

Advertisement

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে কাটোয়া, দাঁইহাট, গুসকরা পুরসভায় তৃণমূলের এগিয়ে থাকা ওয়ার্ডগুলিতেই বিবেচনাধীন ভোটার বেশি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে এই ছবি প্রকট। বিচারাধীন ভোটাররা রীতিমতো শঙ্কায়। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির ষড়যন্ত্র মানুষ মেনে নেবে না। এসব বুমেরাং হবেই। 
গত লোকসভা ভোটে গুসকরা পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডে তৃণমূল এগিয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯১ নম্বর বুথে ৯২৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৬৩ জন ভোটারই বিবেচনাধীন। ওই বুথে তৃণমূলের লিড বেশি ছিল। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৫ নম্বর বুথে ৯৯০ জন ভোটারের মধ্যে ২৬৫ জনই বিবেচনাধীন। ওই বুথেও তৃণমূল ভালো ফল করেছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত শ্যাম বলেন, বিজেপির কথাতে চলছে নির্বাচন কমিশন। তাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। এতে লাভ হবে না কিছু। 
দাঁইহাট পুরসভার ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতে গত লোকসভা ভোটে এগিয়েছিল তৃণমূল। সেখানে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩৮১ জন ভোটারের মধ্যে ১৯১ জনই বিবেচনাধীন। ওই ওয়ার্ডে একশোর বেশি ভোটে শাসকদলের লিড ছিল। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১১৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ১২৮ জনকে  ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ রাখা হয়েছে। দাঁইহাট শহর তৃণমূলের সভাপতি অমরেন্দ্রনাথ দাস বলেন, এতেই তো প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। লোকসভা ভোটে বিজেপি ধর্মীয় বিভাজনের তাস খেলেছিল।  এখন দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতেই সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। 
কাটোয়া শহরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০০ জনকে বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডতে ৫৩৯ জন বিবেচনাধীন তালিকায়। এইসব সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে আবার অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন। অনেকেই বলছেন, সবকিছু নথি জমা দেওয়ার পরেও কমিশন এমন সিদ্ধান্ত ভোটদান থেকে ভোটারদের বিরত রাখার কৌশল। পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। 
বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। কারণ তারা এবার বুঝতে পেরেছে যে, তাদের জেতার রাস্তা বন্ধ হতে চলেছে। আমরা কোনো সম্প্রদায়কে টার্গেট করিনি। যাঁরা সঠিক নথি দেখাতে পারেননি। তাঁদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ