Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে দুই সাংসদের এলাকায় একটি করে বিধানসভায় কষ্টের জয় তৃণমূলের

মাত্র দু’বছর আগেই লোকসভা নির্বাচনে হুগলির দু’টি আসনে হইহই করে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলিতে চিত্রতারকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীরামপুরে আইনজীবী তথা একাধিকবারের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হয়েছিলেন।

হুগলিতে দুই সাংসদের এলাকায় একটি  করে বিধানসভায় কষ্টের জয় তৃণমূলের
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মাত্র দু’বছর আগেই লোকসভা নির্বাচনে হুগলির দু’টি আসনে হইহই করে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলিতে চিত্রতারকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীরামপুরে আইনজীবী তথা একাধিকবারের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হয়েছিলেন। প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রেই নজরকাড়া ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হুগলিতে দু’টি লোকসভা এলাকা থেকে মাত্র একটি করে বিধানসভা আসন জিততে পেরেছে তৃণমূল। যদিও হাওড়ার জোমজুড় বিধানসভা আসনটি শ্রীরামপুরের মধ্যে পড়ে এবং এবার ওই কেন্দ্রটি তৃণমূল জিতেছে। বাকি সব বিধানসভা কেন্দ্রেই বিপুল ব্যবধানে বিজেপির কাছে হেরেছেন ঘাসফুলের প্রার্থীরা। মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে দলের জনপ্রিয়তায় বিপুল ভাটা, রাজনৈতিক চর্চা উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা উত্তরপাড়া বিধানসভায় ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতাতে পারেননি কল্যাণবাবু।

Advertisement

যদিও এই বিষয়টি নিয়ে সাংসদের এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণ করতে নারাজ তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র। সাংসদ রচনার সাতটি বিধানসভার মধ্যে কেবলমাত্র ধনেখালিতে ঘাসফুল টিকে থাকতে পেরেছে। বাকি ছ’টি বিধানসভাতেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে তৃণমূলকে। অসীমা বলেন, এবার অসম লড়াই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, আরএসএসের কৌশল, সমস্ত রাষ্ট্রশক্তি আমাদের বিপক্ষে ময়দানে নেমেছিল। আমরা সেটা প্রতিরোধ করতে পারিনি। বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে হারের পর্যালোচনা করা উচিত। বিজেপির অন্দরের দাবি, লোকসভা ভোটের সময় পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। আবার, লোকসভায় বিজেপির খারাপ ফলাফল তৃণমূলকে অহংকারী করে তুলেছিল। সেই সুযোগে হুগলিতে জনভিত্তি মজবুত করার কাজ শুরু করেছিল বিজেপি। কার্যত তাতেই সাফল্য এসেছে। বিজেপির রাজ্যনেতা দীপাঞ্জন গুহ বলেন, সমস্ত স্তরের, সমস্ত ভাবধারার মানুষ মনে করেছিলেন, তৃণমূলের অপশাসনের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এই ভাবনাই হুগলিতে আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছে।  গত লোকসভা ভোটে দু’টি আসন জিতলেও হুগলির সব বিধানসভা থেকে লিড পায়নি তৃণমূল। এবারের নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, পিছিয়ে থাকা বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে এবার অন্তত ৩০ হাজারের বেশি ব্যবধানে তৃণমূল হেরেছে। আর এগিয়ে থাকা বিধানসভাগুলির মধ্যে হুগলির ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ধনেখালি ধরে রাখতে পেয়েছে মমতা-শিবির। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ধনেখালিতে স্থানীয় বিধায়ক অসীমা পাত্র এবং তাঁর সংগঠন গেরুয়া ঝড় সামলে দিতে পেরেছে। অন্যদিকে, শ্রীরামপুর লোকসভার উত্তরপাড়া, চাঁপদানি, শ্রীরামপুর, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া এবং হাওড়ার ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর— এই সাত কেন্দ্রের মধ্যে চণ্ডীতলা ও ডোমজুড় ধরে রাখতে পারলেও বাকি পাঁচটিতে গোহারা হয়েছে তৃণমূল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, জাঙ্গিপাড়ার মতো সংখ্যালঘু প্রভাবিত বিধানসভাতেও হেরেছে মমতার দল। যদিও শিবরাত্রির সলতের মতো আরেক সংখ্যালঘু প্রভাবিত বিধানসভা চণ্ডীতলায় জিতেছে। লোকসভায় অধিকাংশ স্থানেই বামেরা ছিল দ্বিতীয় স্থানে। এবার সেই ব্যবধান টপকে বিজেপি প্রথম হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ