


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিধানসভা ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। দলের তরফে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ তো দূরস্থান! কিন্তু ইতিমধ্যেই রামপুরহাটে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থীর নাম বাদ রেখে দলের প্রতীক এঁকে দেওয়াল ভরিয়ে তুলছেন শাসকদলের কর্মী,সমর্থকরা। শনিবার রামপুরহাট শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে এই দেওয়াল লিখন শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা।
২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। যদি রামপুরহাটে তারও দশ বছর আগে অর্থাৎ ২০০১ সালে জোড়াফুল ফুটেছিল। বিপুল ভোট পেয়ে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে এই আসনে কোনো বিরোধী দল দাঁত ফোটাতে পারেনি। টানা জয়ী হয়ে আসছেন আশিসবাবু। দলের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে শাসকদল। তবে বিগত কয়েকটি ভোটে ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে শহরে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এবার পিছিয়ে থাকার তকমা ঘোঁচানোর অঙ্গিকার করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা। নেতৃত্বেরও সাফ কথা, পুরসভার ভোটে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে জয়ী হলে কেন বিধানসভা বা লোকসভার ভোটে পিছিয়ে থাকবে দল। তাই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন তৃণমূলস্তরের কর্মীরা। ইতিমধ্যে বিধায়কও বুথভিত্তিক আলোচনা সভা শুরু করেছেন। এরই মধ্যে শনিবার সকালে ১০ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করে দিলেন তৃণমূল কর্মীরা। শুধু প্রার্থীর নামটুকু বাদ রেখে জোড়া ফুলের প্রতীক এঁকে রামপুরহাটবাসীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে জয়ের স্রোতে শামিল হওয়ার।
ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা তথা জেলার যুব সহ সভাপতি ওয়াসিম আলি ভিক্টর বলেন, দলের নির্দেশে আমরা নেমে পড়েছি। প্রার্থীর নাম আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতীকই বড়। রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের জননেত্রী ক্ষমতায় আসছেন। আগে থেকে তা জানান দেওয়ার জন্যই দেওয়াল লেখার কর্মসূচি। দেওয়াল লিখনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২১ সালের জনপ্রিয় ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’ স্লোগানকে হাতিয়ার করেছে তাঁরা।
এদিকে, আশিসবাবু বলেন, দলের নির্দেশেই প্রার্থীর নামের জায়গা ফাঁকা রেখে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। কর্মীরা সবাই উজ্জীবিত। যদিও বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, আমরা অনেকে আগেই বিধানসভাভিত্তিক দেওয়াল লিখন শুরু করেছি। এখন তৃণমূল আমাদের দেখে দেওয়াল লিখতে শুরু করেছে। আগামী ২ মার্চ তারাপীঠ থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে। তারপর থেকে পুরোদমে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে যাবে। -নিজস্ব চিত্র