Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার কাণ্ডে আতঙ্কিত তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তৃণমূল প্রতিনিধিরা আতঙ্কিত। জনরোষ বাড়ছে, বিস্তারিত পড়ুন।

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার কাণ্ডে আতঙ্কিত তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরা
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোথাও পঞ্চায়েত সদস্য, কোথাও আবার বিধায়ক কিংবা সাংসদের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী। এই নিয়ে শুধু বিজেপি নয়, বিক্ষোভে শামিল হচ্ছেন সাধারণ মানুষও। তৈরি হচ্ছে জনরোষ। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আতঙ্কের প্রহর গুনছেন তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধি। তাঁদের দাবি, জেলায় এখনও বিভিন্ন পঞ্চায়েত বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছে তৃণমূল। দুর্যোগের সময় দুর্গতদের ত্রাণ দিতে হয়। তাই বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় কোনো সদস্য বা জনপ্রতিনিধির অফিসঘরে সেইসব সামগ্রী আগে থেকে মজুত করে রাখা থাকে। কেউ কেউ বিশেষ করে সদ্য বিজেপিতে যাওয়া কয়েকজন কর্মী সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানুষের ক্ষোভকে উস্কে দিচ্ছে। তাই জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই এখন জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। মজুত রাখা সেই ত্রাণসামগ্রী অন্যত্র সরাতে প্রশাসনের সাহায্য চাইছেন তাঁরা।

Advertisement

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে, কখনও নেতাদের বাড়ি থেকে, আবার কখনও জনপ্রতিনিধির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রিপল ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তারও হয়েছেন অনেকে। এই অবস্থায় জয়ী বিধায়ক থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ সদস্য, কর্মাধ্যক্ষ, এমনকি পঞ্চায়েত প্রধানরাও যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছেন। কারণ এখনও অনেকের বাড়ি অথবা কার্যালয়ে ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বিধায়ক বলেন, সারা বছরই কেউ না কেউ এসে ত্রিপল চান। বিশেষ করে বর্ষাকালে বহু মানুষ ত্রিপল নিতে আসেন। তাই বিভিন্ন জায়গায় আগাম এই সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়। তাছাড়া সরকার পরিবর্তন হলেও এখনও পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূলের বোর্ড রয়েছে। তারপরও অতি উৎসাহী বিজেপি কর্মীদের একাংশ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে খেপিয়ে তুলছেন। ফলে ক্রমেই সমস্যা বাড়ছে। এখন কীভাবে মজুত করা ত্রাণসামগ্রী বিভিন্ন কার্যালয় ও অফিস থেকে বের করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তা নিয়েই চলছে চিন্তাভাবনা। সেকারণেই জেলা প্রশাসনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রশাসনিকভাবে এ নিয়ে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, তৃণমূল নেতাদের এই দাবিকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের যাদবপুর সংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, তৃণমূল যা বলছে, তা ভিত্তিহীন। যদি সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখতেই হয়, তাহলে তা থাকার কথা পঞ্চায়েত অফিসে কিংবা পঞ্চায়েতের গুদামে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় গোপন জায়গা থেকে সেগুলি উদ্ধার হচ্ছে। তাহলে ধরে নিতে হবে নেতারা সেগুলি বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ