Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কংগ্রেসকে ঠেকাতে তৃণমূল-বাম জোট, কুশলী সিদ্ধান্ত বলে সাফাই সিপিএমের

বর্তমান রাজ্য-রাজনীতিতে বাম-তৃণমূলের বড় শত্রু কে? রাজনৈতিক মহলের মতে, অবশ্যই বিজেপি

কংগ্রেসকে ঠেকাতে তৃণমূল-বাম জোট, কুশলী সিদ্ধান্ত বলে সাফাই সিপিএমের
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: বর্তমান রাজ্য-রাজনীতিতে বাম-তৃণমূলের বড় শত্রু কে? রাজনৈতিক মহলের মতে, অবশ্যই বিজেপি। আর জাতীয়স্তরে বিজেপির বড় প্রতিপক্ষ কে? রাজনীতির কারবারীদের কথায়, অবশ্যই কংগ্রেস। তা হলে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় বিজেপিকে রুখতে হলে প্রয়োজন বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোটশক্তি। অথচ, রানিনগরে কংগ্রেসকে দুর্বল করতেই হাত ধরাধরি করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করল বাম-তৃণমূল। দলীয় সিদ্ধান্তে চটে লাল পঞ্চায়েত সমিতির বাম সদস্যা। দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছেন জেলা বামফ্রন্টকে।  

Advertisement

বুধবার ছিল রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন। সিপিএম ও তৃণমূল জোটশক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে কংগ্রেসের প্রার্থীকে হেরে যেতে হয়। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূল সদস্য তানিয়া পারভীন। তবে, বোর্ড কাদের হাতে থাকল, তা স্পষ্ট করলেন না সদ্য নির্বাচিত সভাপতি থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের ঋতপন্থী সাংসদ আবু তাহের খানও। এদিকে, দলের নির্দেশেই বাধ্য হয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলকে সমর্থন দিতে হয়েছে বলে দাবি করে চোখে জল মুছতে মুছতে পঞ্চায়েত সমিতি ছাড়লেন বামফ্রন্ট সদস্য তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আয়েশা সিদ্দিকা।
২০২৩ সালের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২৭ আসনের ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল ১৩টি এবং বাম-কংগ্রেস জোট ১৪টি আসন দখল করেছিল। সভাপতি হয়েছিলেন কংগ্রেসের কুদ্দুস আলি। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। পালাবদলের পর অনাস্থার তোড়জোড় শুরু হতেই পদত্যাগ করেন সভাপতি। সেই পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বাম সদস্যা আয়েশা। এদিন নির্বাচন ঘিরে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সভাকক্ষে মোট ২৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তৃণমূল শিবিরের ৯, বামফ্রন্টের ৫ এবং কংগ্রেসের ১০ জন সদস্য ছিলেন। কংগ্রেসের এক সদস্যের পদ আগেই খারিজ হয়েছে। আরও দুই কংগ্রেস সদস্য তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশি হেপাজতে। তাঁরা ভোটে অংশ নিতে পারেননি। সভাপতি পদের জন্য কংগ্রেসের অসীমা মণ্ডল ও তৃণমূলের তানিয়া পারভীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অসীমাদেবী পান ১০টি ভোট। তানিয়ার পক্ষে তৃণমূলের ৯ সদস্যের পাশাপাশি বামফ্রন্টের ৫ সদস্য ভোট দেন। ফলে ১৪ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন তানিয়া। নির্বাচনের পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আয়েশা বলেন, ‘আমি লাল ঝান্ডা নিয়ে জন্মেছি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। অথচ, পার্টির নির্দেশে আজ সেই তৃণমূলকেই সমর্থন দিতে হল।’ এমন আঘাত আসতে পারে, সেটা তাঁর কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। একসময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ থেকে সিপিএম ত্যাগ করলাম। সিপিএমকে আমি ঘৃণা করি।’ যদিও সিপিএমের দাবি, উনি আরএসপি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি। এদিকে নবনির্বাচিত সভাপতিকে সংবর্ধনা দিয়ে সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থে সদস্যরা মিলিতভাবে একজনকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। বামফ্রন্টের সদস্যরাও তাতে সমর্থন করেছেন। এতে দলের কোনও বিষয় নেই।’ সভাপতি বলেন, ‘জনসাধারণের উন্নয়নের জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছি।’ রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি বলেন, ‘তৃণমূল জমানায় একের পর এক সিপিএম কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন। আজ তৃণমূলের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছে শুধুমাত্র কংগ্রেসকে আটকাতেই।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জামাল হোসেন বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তরাই কংগ্রেসে ভিড়েছেন। রানিনগরে তৃণমূল নেতৃত্ব বলে কিছু নেই। তৃণমূলের ভোট নিজেদের দিকে টানার ভাবনা থেকেই এই সমর্থন। আয়েশা আরএসপির নির্বাচিত প্রতিনিধি। সিপিএমের নন। ফলে তিনি সিপিএম ছাড়বেন কী করে?’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ