


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কয়েক মাস আগে জয়পুরের তৃণমূল যুব নেতার সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। এবার তাঁর ফেসবুক পোস্ট চর্চায় এনেছে জয়পুরের মহিলা নেত্রী নীলাঞ্জনা পট্টনায়ককে। নীলাঞ্জনার অভিযোগ, তিনি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। তাঁর এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন হচ্ছে, অথচ তিনিই ডাক পাচ্ছেন না। অন্য কেউ ফিতে কেটে দিয়ে চলে যাচ্ছে! নীলাঞ্জনা ফেসবুকে লিখছেন, আমি জেলা পরিষদ কর্মাধ্যক্ষ্য। অথচ যাঁরা পঞ্চায়েত ভোটের সময় দলের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী দেন, দলবিরোধী কাজ করে তৃণমূল থেকে বহিঃষ্কৃত হন, তাঁরা প্রকল্পের কাজের ফিতে কেটে উদ্বোধন করেন। এই সমস্ত নেতাদের কাজই হচ্ছে দলের ক্ষতি করা। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। আমি দলকে এনিয়ে জানাব, যাতে বিধানসভা ভোটের আগে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সিধি ও রোপো অঞ্চলে ওয়াটার শেড প্রকল্পের আওতায় একাধিক বাঁধ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। নীলাঞ্জনা বলেন, বিগত বছরে ওই এলাকায় বাঁধ সংস্কারের কাজে বহু বেনিয়ম হয়েছে। সংস্কারের কাজ ভালো হয়নি বলে স্থানীয়রাই অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই কারণে আমি লে আউট নিয়ে বাসিন্দাদের কাছে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য একটাই, কাজটা যাতে পুঙ্খানুপুঙ্খ হয়। কিন্তু দেখি আমি ওই স্থানে থাকা সত্ত্বেও আমাকে লুকিয়ে প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন দলবিরোধী কাজে যুক্ত নেতারা।
এনিয়ে তৃণমূলের জয়পুর ব্লকের সভাপতি রাজাবাবু আনসারি বলেন, ঘটনার কথা আমি জেনেছি। যা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তবে, নীলাঞ্জনার এভাবে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে পোস্ট করাটা ভালোভাবে নিচ্ছেন না অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, কারও কোনও অভিযোগ থাকলে দলীয় ফোরামে বলবে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কী হয়েছে, খোঁজ নেব। যদি কোনও সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সবার সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, পশ্চিম দিকে অস্ত যায়, এটা যেমন চিরন্তন সত্য, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলও তাই। তৃণমূলের এরকম কোন্দল যত বাড়বে, ততই বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক বৃদ্ধি পাবে।