


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে তৃণমূল পরিচালিত কামারপুকুর পঞ্চায়েতের প্রধান রাজদীপ দে ওরফে বুম্বাকে গোঘাট থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল। শনিবার রাতে তারকেশ্বর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বাড়ি কামারপুকুর পঞ্চায়েতের শ্রীপুর এলাকায়। রবিবার ধৃতকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ পুলিশ খতিয়ে দেখছে। প্রধানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গোঘাটে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃত রাজদীপ সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তৃণমূল করি বলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাকে মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার পালটা বলেন, ষড়যন্ত্র করে কাউকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো বিজেপির নীতি নয়। পুলিশ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পঞ্চায়েতের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত দিনে কামারপুকুরে সিন্ডিকেটরাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, বহিরাগত লোকদের এনে কামারপুকুরের পবিত্র পরিবেশ বিঘ্নিত করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, তোলাবাজি করেছেন প্রধান। কামারপুকুরের মানুষ সেসব জানেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন। তারপর প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে প্রধানের বিরুদ্ধে গোঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। এই দাপুটে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভুয়ো নথি তৈরি করে বেআইনিভাবে টাকা রোজগার, এলাকায় ভয় দেখানো, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর টাকা আত্মসাৎ সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ওই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু হয়েছে। ওই রাতে রাজদীপ ছাড়াও শ্রীপুরের অপর এক যুবক সহ পাঁচজনের নামে এমনই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
জেলার রাজনৈতিক মহলে বুম্বা তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তৃণমূলের একাংশের দাবি, বুম্বাই গোঘাট-২ ব্লকে জোড়াফুলের সংগঠনের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করতেন। এলাকায় তাঁর প্রভাব ছিল। তার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেননি। তবে তিনি গ্রেপ্তার হতেই তৃণমূলের অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এক তৃণমূল নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘নিজেকে স্বঘোষিত এমএলএ বানিয়েছিল’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, মাথায় ‘দাদা’ হাত রাখার পরই রাজদীপ আমূল বদলে যান। ওই পঞ্চায়েত প্রধান দলের পুরনো কর্মীদের অনেককেই সম্মান করতেন না।