পরামর্শে কলকাতা মেডিকেল কলেজের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ।
পাহাড় ভ্রমণ: আগে থেকেই কারও ফুসফুসের অসুখ, হার্টের রোগ বা প্রেশার থাকলে, পাহাড়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর যত দিনের ট্যুর পরিকল্পনা করছেন, তার থেকে অন্তত দুই-তিন দিনের বেশি ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।
ছোট একটি গরম জলের ফ্লাক্স সঙ্গে রাখা অত্যন্ত উপকারী। আর হ্যাঁ, ১৪-১৫ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় ওঠার পর শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নেমে আসুন ও চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
জঙ্গলে বেড়ানো: জঙ্গল সাফারির সময় হাত এবং পা পুরোপুরি ঢেকে রাখে, এমন পোশাক পরা উচিত। ফুলপ্যান্ট বা সালোয়ারের অংশ বিশেষ মোজার ভিতরে গুঁজে দিন, যাতে কোনো পোকা সহজে ত্বকের সংস্পর্শে আসতে না পারে। হোটেল বা থাকার জায়গায় পোকামাকড় বা মশার উপদ্রব এড়াতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে শোবেন। উন্মুক্ত ত্বকে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ মসকুইটো রিপেলেন্ট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। জঙ্গলে বিশুদ্ধ জলের অভাব দেখা দিতে পারে। তাই সঙ্গে বাজারচলতি সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট ড্রপ, ট্যাবলেট বা ক্লোরিন প্রিপারেশন রাখতে পারেন, যা জলকে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে।
সমুদ্র ভ্রমণ: পুরী, দীঘা, গোয়া বা আন্দামান! সমুদ্র ভ্রমণের সময়েও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। সৈকতে ভ্রমণের সময় কড়া রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা, সানগ্লাস এবং ভালো সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন।
মেডিকেল কিটে রাখবেন কী
জ্বর ও ব্যথার ওষুধ: হঠাৎ চোট-আঘাত, হাঁটাচলার সময় হোঁচট খেয়ে ব্যথা করলে বড়রা খেতে পারেন ১০০০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল। জ্বরের জন্য ৬৫০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল সঙ্গে রাখা নিরাপদ। ছোটদের ওষুধ একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেই সঙ্গে রাখবেন।
এলার্জির ওষুধ: এলার্জি এড়াতে ফেক্সোফেনাডিন, মন্টেলিউকাস্ট বা বিলাস্টিন গ্রুপের এন্টি-এলার্জিক ট্যাবলেট অন্তত ১০ থেকে ২০টি সঙ্গে রাখুন।
পেট খারাপ ও বদহজমের ওষুধ: পাহাড়, জঙ্গল বা সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ডায়ারিয়ার মতো সমস্যায় মেট্রোনিডাজল ও নরফ্লক্সাসিনের কম্বিনেশন এবং পেট খারাপের মোকাবিলায় ওআরএস অবশ্যই রাখবেন। এ ছাড়া গ্যাস অম্বলের জন্য ভালো লিকুইড অ্যান্টাসিড বা সাধারণ ডাইজিন জাতীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা জরুরি।
বমি: অনেকের বেড়াতে গিয়ে বমির সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে অনডেনসেট্রন ওষুধটি রাখতে পারেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এড: হঠাত্ পড়ে গিয়ে ছোটোখাটো কাটাছেঁড়া হলে চিকিত্সার জন্য তুলো, গজ, ছোট্ট কাঁচি, লিউকোপ্লাস্ট, অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট এবং ব্যান্ড-এইড কিটে থাকা আবশ্যক।
সর্দি-কাশির ওষুধ: সর্দি-কাশির জন্য বাজারচলতি নাকের ড্রপ এবং কাফ সিরাপ সঙ্গে রাখুন।
শেষ কথা
ভ্রমণের সময়, খাবারদাবার খাওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধির খেয়াল রাখুন। নিজের ও পরিবারের খেয়াল রাখুন। পুজোয় ভ্রমণ হোক আনন্দদায়ক। ভালো থাকুন।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক



