নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পুজোর মুখে ফের বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালুর দাবি উঠেছে। পুজোর মরশুমে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর জখমদের অবস্থার অবনতি হলে কলকাতায় স্থানান্তর করে দেওয়া হয়। অথচ বাঁকুড়া মেডিকেলের অন্যান্য বিভাগে কলকাতার মতোই বর্তমানে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কেন জঙ্গলমহলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ওই মেডিকেল কলেজে ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালু হবে না? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে উঠছে। বুধবার বাঁকুড়া মেডিকেলের নতুন ভবনে জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি সেমিনার ছিল। সেখানে বিষয়টি ওঠে। ওই সেমিনারে বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা, মেডিকেলের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু, এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী সহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিধায়ক বলেন, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। জেলার অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপারে তিনি জানতে চান। তাঁকে বিস্তারিত বলেছি। বাঁকুড়া মেডিকেলে ট্রমা কেয়ার সেন্টার প্রয়োজন। এনিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
এমএসভিপি বলেন, ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালুর জন্য আমরা একাধিকবার রাজ্যে জানিয়েছি। কিন্তু, তা বাঁকুড়া মেডিকেলে এখনো চালু করা যায়নি। তবে দুর্ঘটনায় জখমদের এখানে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। পুজোর সময় সার্জারি সহ অন্যান্য বিভাগ চালু থাকবে। চিকিৎসকরা রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি করবেন। ফলে এনিয়ে জেলাবাসীর চিন্তার কিছু নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রমা কেয়ারের তিনটি স্তর রয়েছে। বর্তমানে বাঁকুড়া মেডিকেলে ট্রমা কেয়ারের তৃতীয়স্তরের চিকিৎসা পরিষেবা মেলে। প্রথম স্তর বা লেভেল ওয়ানের চিকিৎসা পেতে পুরোদস্তুর ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালু প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এক ছাদের তলায় সিটি স্ক্যান, এমআরআই সহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে। রোগীকে নিয়ে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ছোটাছুটি করতে হবে না। বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে উন্নতমানের ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালু রয়েছে। ওই ধরনের সেন্টার চালুর জন্য বাঁকুড়া মেডিকেলে আরো চিকিৎসক নিয়োগ দরকার। তা না হলে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি বা ভবন থাকলেই ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালু করা যাবে না। চিকিৎসকের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী ও অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। সেদিকেও স্বাস্থ্যদপ্তরকে নজর দিতে হবে।
এমএসভিপি বলেন, আগে হাসপাতালের কার্ডিওলজি, নিউরোলজি সহ অন্যান্য বিভাগে সেভাবে চিকিৎসা হত না। এখন ওইসব বিভাগ ভালোভাবে চলছে। সপ্তাহে তিনদিন নিউরো সার্জারি হচ্ছে। অনেক জটিল অস্ত্রোপচার সেখানে হচ্ছে, যা এতদিন শুধুমাত্র কলকাতায় হত। অর্থোপেডিক সহ অন্যান্য বিভাগেও ট্রমা রোগীদের চিকিৎসা হয়।
দুর্ঘটনায় জখমদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিউরো মেডিসিন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিতে গত কয়েক বছরে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা যোগ দেওয়ায় বাঁকুড়া মেডিকেলের খোলনলচে পালটে গিয়েছে। এদিনের সেমিনারে পিপিটি’র মাধ্যমে আমরা গত এক বছরের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার মেডিকেলের ছাত্রছাত্রী সহ অন্যান্যদের সামনে তুলে ধরি। চিকিৎসার আগে ও পরে রোগীদের অবস্থার খুঁটিনাটিও সেখানে দেখানো হয়।