সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মঙ্গলবার তালডাংরার সরকারি হর্টিকালচার ফার্মে চাষিদের হাতেকলমে উন্নত প্রজাতির চারা তৈরির পদ্ধতি শেখানোর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল। এদিন ফার্মে আয়োজিত ওই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) চঞ্চল মজুমদার, ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর তপনকুমার গিরি, বাঁকুড়া জেলা হর্টিকালচার দপ্তরের আধিকারিক পলাশ সাঁতরা প্রমুখ। এছাড়াও এদিনের কর্মশালায় বিভিন্ন ফার্মার্স প্রডিউসার সংস্থার(এফপিসি) অধীনস্ত প্রায় শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সরকারি আধিকারিকরা ফার্ম পরিদর্শন করেন। ফার্মে উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ফুল ও ফলের চারা, সামগ্রিক পরিকাঠামো দেখে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিনের কর্মশালায় গ্রাফটিং, বাডিং, লেয়ারিং, কাটিং, সিডলিং প্রভৃতি পদ্ধতিতে কীভাবে চারা তৈরি করতে হয় সেব্যাপারে কৃষকদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হর্টিকালচার দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, তালডাংরার ফার্মে বর্তমানে প্রায় ৯৬প্রজাতির গোলাপ, উচ্চফলনশীল ওল ছাড়াও উন্নত প্রজাতির বিভিন্ন ফলের চারা মজুত রয়েছে। চাষিরা যাতে বিভিন্ন ফুল, ফলের বাগান তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি উপার্জন করতে পারেন তারজন্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে প্রায় প্রতিটি ব্লক এলাকায় চাষিদের সংগঠিত করে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এদিন তালডাংরায় সরকারি হর্টিকালচার ফার্মে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ফুল ও ফলের চারা তৈরির পদ্ধতির পাশাপাশি ফলন কীভাবে বাড়ানো যায় সেব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণরত চাষিরা বলেন, সরকারি হর্টিকালচার ফার্মে বহু ধরনের ফুল ও ফলের চারাগাছ দেখলাম। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চারাও এখান থেকে পাওয়া যায়। সেটা জেনে খুশি হয়েছি। এছাড়াও সাধারণ সবজি চাষের পাশাপাশি ফুল ও ফলের চাষ করতে পারলে বেশি লাভবান হওয়া যায়। সেটা এদিনের প্রশিক্ষণে এসে জানতে পারলাম। চাষের পদ্ধতিও জানতে পারলাম। আগামী দিনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফুল ও ফলের বাগান তৈরির চেষ্টা করা হবে।