Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরশুড়ায় পিছিয়ে ২২ হাজার ভোটে, উন্নয়নকে অস্ত্র করেই প্রচারে তৃণমূল

জনসংযোগ ও উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই পুরশুড়া বিধানসভায় হারানো মাটি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় ২৮ হাজার ভোটে হারে তৃণমূল।

পুরশুড়ায় পিছিয়ে ২২ হাজার ভোটে, উন্নয়নকে অস্ত্র করেই প্রচারে তৃণমূল
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আরামবাগ: জনসংযোগ ও উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই পুরশুড়া বিধানসভায় হারানো মাটি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় ২৮ হাজার ভোটে হারে তৃণমূল। আবার গত লোকসভায় এই বিধানসভায় হারের ব্যবধান হয় ২২ হাজার। তাই এখানে ঘুরে দাঁড়াতে জনসংযোগ ও ব্যাপক উন্নয়নের কাজ নিয়ে প্রচারেই জোর দিয়েছে তৃণমূল। সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রচার যেমন করা হচ্ছে, তেমনই মানুষের সমস্যার সমাধান করে পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে থেমে নেই বিরোধীরাও। তাঁরাও গ্রামের রাস্তায় মোড়ে মোড়ে মিটিং, মিছিল করে সাধারণ মানুষকে কাছে টানার চেষ্টা করছে। সরকারি বিভিন্ন কাজে অনিয়মকে হাতিয়ার করেই তাঁরা ভোট বৈতরণী পেরনোর চেষ্টা চালাচ্ছে।  

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত পুরশুড়ায় বামেদের ব্যাপক দাপট ছিল। শাসকদলের অভিযোগ, সেইসময় বামেদের সন্ত্রাসে পুরশুড়ায়  ১১ জন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে যুধিষ্ঠির দোলুইয়ের মৃত্যু ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যা রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছিল। যার ফলশ্রুতি হিসেবে ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী পারভেজ রহমান জয়ী হন পুরশুড়ায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের টিকিট পান ডাঃ এম নুরুজ্জামান। তিনি জোট প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক হন। তারপর যত সময় গিয়েছে পুরশুড়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল চরমে ওঠে। যার ফলে একুশের বিধানসভায় তৃণমূলের হুগলির যুব নেতা দিলীপ যাদবকে হারিয়ে বিধায়ক হন বিজেপির বিমান ঘোষ। বর্তমানে তৃণমূলের অভিযোগ, তিনি পুরশুড়ার বিধায়ক হয়েও তেমন কিছুই উন্নয়ন করতে পারেননি। বাড়ি আরামবাগে হওয়ায় তিনি সেখানেই বেশিরভাগ সময় কাটাতেন। তাই বহিরাগত তকমা তাঁর গায়ে সেঁটে যাওয়ায় একেই হাতিয়ার করে তৃণমূলের তরফে গ্রামে, গ্রামে প্রচার হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের জমানায় কি, কি উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তারও ব্যাখ্যা প্রচারে কাজে লাগাচ্ছে শাসকদল। 
এনিয়ে পুরশুড়ার তৃণমূল নেতা মমিন মিদ্যা বলেন, বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসে পুরশুড়ায় অনেক উন্নয়নের কাজ করেছিলাম। পানীয় জলের জন্য রিজার্ভার, কংক্রিটের সেতু তৈরির পাশাপাশি আকবরি খালের সংস্কার হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য মুণ্ডেশ্বরী নদীতে ড্রেজিং হয়েছে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে ভালো নার্সিংহোমে চিকিৎসা করাতে পারছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে জনগণ পুরশুড়ার ভূমিপুত্র তথা তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারিকে জয়যুক্ত করবেন। 
এদিকে এই প্রসঙ্গে পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, বিধায়ক তহবিল থেকে যা পেয়েছি, তার সবটুকুই উন্নয়নে খরচ করেছি। এছাড়াও একটি হল্ট স্টেশন সহ রাধানগর থেকে আরামবাগ রেল লাইনের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি।

সম্পর্কিত সংবাদ