


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর দীঘায় ভিড় বেড়ে গিয়েছে। দীঘা যাওয়ার পথে ১১৬বি জাতীয় সড়কে হেঁড়িয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে নাভিশ্বাস উঠছে পর্যটকদের। গত ৬জুন থেকে টানা তিনদিনের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নামছে দীঘায়। সেকারণে দীঘা যাওয়ার জাতীয় সড়কে অস্বাভাবিক গাড়ির চাপ বেড়েছে। হেঁড়িয়ায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ আটকে রয়েছে। রাস্তার দু’ধারে অজস্র দোকানপাট। রাস্তার উপর বাস থামিয়ে যাত্রীরা ওঠা-নামা করেন। গত দু’দিনের মতো শনিবারও হেঁড়িয়ার দু’দিকে পাঁচ কিলোমিটার করে মোট ১০কিলোমিটার জুড়ে যানজটে জেরবার হন বহু পর্যটক। এরমধ্যেই ইড়িঞ্চির কাছে একটি প্রাইভেট গাড়িতে ধাক্কা মারে অপর একটি গাড়ি। তাতে একটি গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে নীচে পড়ে যায়। তা নিয়ে রীতিমতো মারামারি শুরু হয়। রাস্তার উপর মারামারি থামাতে হিমশিম অবস্থা। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (ট্রাফিক) শ্যামলকুমার মণ্ডল বলেন, হেঁড়িয়া থেকে কালীনগর পর্যন্ত জাতীয় সড়কে যানজট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণ না হলে ৫০০পুলিস দিয়েও কোনও কাজ হবে না।
শনিবার সকাল থেকেই হেঁড়িয়ায় ব্যাপক যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই যানজটের রেশ একদিকে বাজকুল, অপরদিকে ইড়িঞ্চি অবধি পৌঁছে যায়। যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট গাড়ি, পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। কাঁথি পৌঁছনোর আগে নাচিন্দা, শিল্লিবাড়ি এলাকাতেও জাতীয় সড়কে বেশ যানজট ছিল। দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ হলেও হেঁড়িয়া থেকে কালীনগর এবং পিছাবনী থেকে দীঘা পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ আটকে যায়। এই মুহূর্তে সড়কপথে দীঘা যাওয়ার জন্য হেঁড়িয়া এলাকা সবচেয়ে আতঙ্কের হয়ে উঠেছে। সড়কপথে হেঁড়িয়া থেকে কাঁথি পৌঁছতে ৩৫-৪০মিনিট লাগার কথা। কিন্তু, যানজটের ফাঁসে আড়াই-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে ভূপতিনগর থানা থেকে পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে বাড়ি যাওয়ার পথে হেঁড়িয়ায় টানা দু’ঘণ্টা আটকে পড়েন পুলিস অফিসার আমিনুল ইসলাম। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে দীঘা যাওয়ার পথে আটকে পড়া পর্যটক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, প্রচণ্ড জ্যামের মুখোমুখি হই। ইড়িঞ্চির কাছে দু’টি প্রাইভেট গাড়িতে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় রাস্তার উপর মারামারি হয়। হেঁড়িয়ায় রাস্তা সংকীর্ণ। যেকারণে সেখানে জ্যামে আটকে পড়ছে সারি সারি গাড়ি। তারমধ্যেই কিছু প্রাইভেট গাড়ি এদিক ওদিক দিয়ে এগনোর চেষ্টা করায় পরিস্থিতি বিগড়ে যাচ্ছে। রাস্তায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিসের অভাব রয়েছে। দীঘাগামী ট্রেন সময়মতো চলছে না। তাছাড়া সকালের দিকে ট্রেনও কম রয়েছে। অধিকাংশ পর্যটক সড়কপথে দীঘা রওনা দিচ্ছেন। সেকারণে ১১৬বি জাতীয় সড়কে গাড়ির চাপ অনেক বেড়েছে। জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে চাপ অনেকটা বেড়েছে। দুর্ঘটনার সংখ্যাও হু-হু করে বেড়েছে। প্রতি মাসে জাতীয় সড়কে ৩০টির বেশি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
হেঁড়িয়ায় ট্রাফিক সিগন্যাল রয়েছে। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে সড়ক চলে গিয়েছে। এখান থেকে একদিকে খেজুরি ও অন্যদিকে ভূপতিনগর যাওয়ার রাস্তা। রাস্তার ধার ঘেঁষে দোকানপাট রয়েছে। বাস দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই জাতীয় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা-নামা করতে হয়। কলকাতা থেকে সরাসরি দীঘা যাওয়ার পথে এখানেই থমকে যাচ্ছে গতি। তীব্র গরমে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।