Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ভোলা’র ভয়ে ত্রস্ত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা, পটকা ফাটিয়ে তাড়াতে হয় ষাঁড়কে

একেবারে বনদপ্তরের হাতি তাড়ানোর ছকের আদলে রাখা হচ্ছে ব্যবস্থা। দোকানে বিক্রির অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হচ্ছে পটকা।

‘ভোলা’র ভয়ে ত্রস্ত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা, পটকা ফাটিয়ে তাড়াতে হয় ষাঁড়কে
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, মালদহ: একেবারে বনদপ্তরের হাতি তাড়ানোর ছকের আদলে রাখা হচ্ছে ব্যবস্থা। দোকানে বিক্রির অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হচ্ছে পটকা। যখন-তখন মাথা দুলিয়ে আগমন হতে পারে তার। দোকানিদের উদ্দেশ্যে তীব্র হুংকার ছেড়ে ঢোকে মার্কেটে। শুরু করে তাণ্ডব। দোকানের মালপত্র ফেলে দেওয়া থেকে ভাঙচুর, যেন নিত্যদিনের কাজের অঙ্গ। দুপুর হোক বা সন্ধ্যা ‘ভোলা’-র ভয়ে ত্রস্ত ইংলিশবাজারের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেটের ক্রেতা বিক্রেতারা। তবে, এই ‘ভিলেন’ কোনো হাতি নয়, এই ‘ভোলা’ নামক একটি ষাঁড়। 

Advertisement

বাজারে ঘুরে ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ষাঁড়। কেনাবেচার পাশাপাশি কার্যত সিসি ক্যামেরা হয়ে দোকানিরা ষাঁড়ের উপর নজর রাখেন। ‘ভোলা’ বাজারে ঢুকলেই দোকানের শাটার ফেলে আগে ক্রেতাদের কার্যত তাড়িয়ে দিয়ে পটকা হাতে দোকানের ভেতর থেকেই অপেক্ষা করেন ব্যবসায়ীরা। 
কাছাকাছি এলেই একের পর এক পটকা ফাটিয়ে তাড়ানো হয় ষাঁড়কে। বাজার থেকে ভোলার বের না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই ব্যবসায়ীদের। 
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেটের ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক পলাশ দাস বলেন, সত্যিই এটি জ্বলন্ত সমস্যা। আমরা এই বিষয়ে বহুবার পুরসভা থেকে শুরু করে প্রশাসনের একাধিক বিভাগে জানিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। আমরা চাই এই সমস্যার সঠিক সমাধান হোক।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এবং ইংলিশবাজার শহরের মানুষের কাছে এই ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক। জানা গিয়েছে, গত কয়েকমাসে অন্ততপক্ষে ১০ জন ক্রেতা বিক্রেতাকে গুরুতর জখম করেছে এই ভোলা। কয়েক হাজার টাকার সামগ্রীও নষ্ট করেছে। বিষয়টি প্রশাসনের কাছে পৌঁছয়নি, এমনটা নয়। 
বারবার এবিষয়ে পুরসভা থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনে অভিযোগ করেও ফল মেলেনি। কার্যত আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। দায় ঠেলাঠেলির খেলায় নেমেছে পুরসভা ও প্রশাসন। শুধুমাত্র ওই বাজারে নয়, শহরের রাস্তায় যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে ষাঁড়, গোরু। 
ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ষাঁড়, গোরু সরানোর দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। আমরা তাদের অনেকবার জানিয়েছি। তারাই উদ্যোগ নেবে। মালদহ সদরের এসডিও শম্ভুদ্বীপ সরকার বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ