ডিএইচআরের ‘মুক্তধারা’ জয়রাইডে মুগ্ধ পর্যটকরা, বাড়ল যাত্রীসংখ্যাও
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’য় মুগ্ধ পর্যটক, টয় ট্রেনের আকর্ষণে বাড়ল ডিএইচআরের যাত্রীসংখ্যা। পুজোর মরশুমে পর্যটকদের বিপুল সাড়া পেল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। গত ১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ২১ দিনে টয় ট্রেনে সফর করেছেন মোট ১২ হাজার যাত্রী। এখবর জানিয়ে ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, এই সময়ে রেলওয়ের আয় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা। 

Advertisement

এবার পুজোর ভ্রমণে টয়ট্রেন যাত্রার মধ্য দিয়ে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সঙ্গে পর্যটকদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করার সুযোগ দিতে মুক্তধারা নামে নতুন জয়রাইড পরিষেবা চালু করেছিল ডিএইচআর।
পাহাড়ের পাগলাঝোরা এবং তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’ কবিতার ভাবনার সামঞ্জস্যের কথা মাথায় রেখে জয়রাইডের নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তধারা’। পুজোর মরশুমে এই বিশেষ জয়রাইড পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে শুরুতেই দাবি করেছিলেন ডিএইচআর অধিকর্তা। তাঁর ভাবনা যে সঠিক ছিল তা পুজোর ভ্রমণে এই নতুন জয়রাইডের প্রতি পর্যটকদের বাড়তি উৎসাহে প্রমাণ হয়েছে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই ঐতিহাসিক রেলপথের আকর্ষণ যে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বেড়েই চলেছে তা পুজোর মরশুমের যাত্রীর সংখ্যা ও আয় বৃদ্ধিতেই স্পষ্ট হয়েছে। বাষ্পচালিত ও ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে হেরিটেজ টয় ট্রেনের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ডিএইচআরের বিভিন্ন আয়োজন, পর্যটন বান্ধব পরিষেবা ও টয়ট্রেনের সঙ্গে পাহাড়ের সংস্কৃতিকে মেলে ধরার উদ্যোগ এই সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করেন ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসেন। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের সফর তাঁদের কাছে বরাবরই অন্যতম আকর্ষণ। পরিসংখ্যান বলছে এবার পুজোর ছুটিতে সেই আকর্ষণ আরও বেড়েছে।
এই আকর্ষণ বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টয় ট্রেন ও ডিএইচআরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছেন প্রতিটি কর্মী। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিটি কর্মী পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে হেরিটেজ টয় ট্রেনের পরিষেবাকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। পাশাপাশি প্রতি বছরের ঘুম উৎসব আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে টয় ট্রেনকে আরও ব্যাপকভাবে মেলে ধরেছে বলে দাবি করেন ডিএইচআরের ডিরেক্টর।