গ্যাংটক: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সিকিমে চীন সীমান্তে ঐতিহাসিক সিল্ক রুট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (বিআরও)-কে এই সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি এই রাস্তার সম্প্রসারণ হলে উত্তর সিকিমের বাসিন্দাদেরও সুবিধা হবে। কিন্তু যে পদ্ধতিতে এই সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সিল্ক রুটের অন্যতম অংশ হল জুলুকের বিখ্যাত জিগ-জ্যাগ রোড। দূর থেকে ওই রাস্তার ৩২টি ‘হেয়ারপিন’ বাঁক দেখতে প্রতি বছর ভিড় জমান হাজার হাজার পর্যটক। কিন্তু রাস্তা সম্প্রসারণ হলে ওই বাঁকের সংখ্যা কমে ১৮টি হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তাতে একদিকে যেমন এই রাস্তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারাবে, তেমনই পর্যটকদের আগ্রহও কমবে বলে আশঙ্কা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সিকিমের সাংসদ ইন্দ্র হাং সুব্বা এবং বিআরও-র আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন জুলুক-দুপিধারা-নাথাং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোপাল প্রধান। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় ওই ৩২টি বাঁক যাতে রক্ষা করা হয়, তার জন্য সাংসদ ও বিআরওর কাছে আবেদন করেছেন তিনি। ঐতিহাসিক বাঁক রক্ষার জন্য সরব হয়েছেন পর্যটকরাও। বরানগরের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা দে বলেন, ‘থাম্বি ভিউ পয়েন্ট থেকে রাস্তার অসাধারণ বাঁকগুলি দেখার জন্যই তো জুলুক যেতাম। কিন্তু সেই বাঁকগুলিই যদি না থাকে, তাহলে আর কেন যাব? ঐতিহাসিক ওই রাস্তার পুরানো রূপ রেখেই সম্প্রসারণ করা হোক।’ গোপাল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘আমরা সড়ক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত পরিকাঠামোর গুরুত্ব বুঝি। তবে একইসঙ্গে আমাদের আইকনিক ৩২টি হেয়ারপিন পাঁকের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পর্যটনের গুরুত্বের কথাও মাথায় রাখতে হবে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘রাস্তার সম্প্রসারণ এমনভাবে করা উচিত যাতে কারিগরি ও নিরাপত্তার দিক বজায় রেখে ঐতিহাসিক ৩২টি বাঁককে যতটা সম্ভব রক্ষা করা যায়। কারণ জুলুক, নাথাং সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জীবনধারণের জন্য পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। ফলে ওই জিগ-জ্যাগ রোড শুধু কোনো রাস্তা নয়, এটি আমাদের অঞ্চলের ইতিহাস, পরিচিতি এবং পর্যটকদের আকর্ষণের একটি অংশ। উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’ ফাইল চিত্র



