নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্গাপুর শহরে সর্বত্র টোটো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন পদক্ষেপ না করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাস মালিকরা। কালীপুজোর পর বাস বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি নিয়েছেন বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা।
দুর্গাপুরের মিনিবাস চলাচলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র প্রান্তিকা বাসস্ট্যান্ড। ওখান থেকে দুর্গাপুর স্টেশন সহ শহরের বিভিন্ন লালাকায় মিনিবাস যাতায়াত করত। অভিযোগ, পুজোর সময় বাসের ঘাঁটি বাসস্ট্যান্ডই কার্যত টোটো চালকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বাসগুলি কোনো রকমে অস্বিত্ত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই লড়ছে। সন্ধ্যা ছ’টার পর অধিকাংশ রুটে বাস চলছে না। এও অভিযোগ, রাস্তায় বাস কমে যেতেই টোটো চালকদের দাদাগিরি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাস মালিকদের কথায়, বিজেপি সরকারের আমলে এমনটা হওয়ার কথা নয়। রাজ্যে পরিবহণ মন্ত্রী হয়েই অর্জুন সিং বাস মালিক পক্ষর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তাঁদের দাবির সঙ্গে সহমত হয়ে বাসের রুটে টোটো না চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবহণ দপ্তর থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়। তারপর পশ্চিম বর্ধমানের সদর শহর আসানসোলের বেশ কিছু রুটে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় যানজটের সমস্যা কমেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া বাসরুটগুলি নতুন করে চালু হচ্ছে। গণ পরিবহণে শৃঙ্খলা আসছে। বাসের রুট যেখানে শেষ হচ্ছে টোটো সেখান থেকে যাত্রী তুলছে। সেখানে জেলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহরে ঠিক উল্টো চিত্র। বেনাচিতি বাজার হোক বা দুর্গাপুরে স্টেশন থেকে ডিভিসি মোড় ভারি যানচলাচল করা শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তাতেও ছুটছে টোটো। যাত্রীর অভাবে ভুগছে বাসগুলি। প্রশাসন উদ্যোগ নেয়নি তা নয়, দুর্গাপুর মহকুমার মিনিবাস সংগঠনের সঙ্গে পুজোর আগে বৈঠক হয়। জানতে চাওয়া হয় শহরের মূল রাস্তা কী কী রয়েছে। যেখানে বাস পরিষেবা রয়েছে। কোথায় টোটো চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর শহরের ১২টি রুট দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ এনিয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দুর্গাপুর সাব-ডিভিশন মিনিবাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের অন্য জায়গায় টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলেও দুর্গাপুরে কেন হচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ মাত্র পাঁচটি রুটে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার দাবি রাখছি। দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জার কেরিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক মজুমদার বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
দুর্গাপুরের সহকারি আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক দেবাশিস ঘোষ বলেন, বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের সাঙ্গেও আলোচনা চলছে।



