Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জোগানে টান, গরম বাড়তেই টম্যাটোর দাম দ্বিগুণ

খুচরো বাজারে আলু, পেঁয়াজ সহ অধিকাংশ সব্জির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আচমকাই টম্যাটোর দাম চড়তে শুরু করেছে।

জোগানে টান, গরম বাড়তেই টম্যাটোর দাম দ্বিগুণ
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুচরো বাজারে আলু, পেঁয়াজ সহ অধিকাংশ সব্জির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আচমকাই টম্যাটোর দাম চড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও যে টম্যাটো ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছিল, সোমবার তার দাম ৩৫-৪০ টাকা ছুঁয়েছে। পাইকারি বাজারে টম্যাটোর দাম অনেকটা বেড়েছে। রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে জানিয়েছেন, রবিবারও পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টম্যাটো ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সোমবার সেই দাম ৩০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) টম্যাটো বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা। 

Advertisement

সূত্রের খবর, বাজারে জোগান হঠাৎ কমে যাওয়ার জন্যই দাম বাড়ছে। আগে যেখানে মধ্য কলকাতার একটি বড় পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ৫-৬ টন টম্যাটোর জোগান থাকত, তা এখন কমে এক টনের কাছাকাছি হয়ে গিয়েছে। এর অন্যতম কারণ, রা঩জ্যে উৎপাদিত টম্যাটো প্রায় শেষ। এখন মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক থেকে জোগান আসছে। আগামী প্রায় ৬ মাস ভিন রাজ্যের টম্যাটোর উপরেই নির্ভর করে থাকতে হবে। অক্টোবর মাসের পর পুরুলিয়া থেকে নতুন টম্যাটো বাজারে আসতে শুরু করে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শীতের মরশুমে টম্যাটোর চাষ হলেও কলকাতার বাজারে বেশিরভাগ জোগান আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে।
কৃষি বিপণনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘অফ সিজন’-এর টম্যাটোর জন্য গোটা দেশকেই মূলত নির্ভর করে থাকতে হয় কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের উপর। এই দুই রাজ্যে সারা বছরই টম্যাটোর চাষ হয় এবং দেশের সর্বত্র সরবরাহ হয়। স্বাভাবিকভাবেই চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করে গরম পড়ার পর থেকে। টম্যাটোর দাম কেজিতে ১০০ টাকা হওয়ার নজিরও রয়েছে একাধিকবার। প্রসঙ্গত, দেশে আলুর চাষ শুধু শীতকালেই হয়। কিন্তু হিমঘরে প্রচুর পরিমাণে আলু সংরক্ষণ করে রাখার ফলে ‘অফ সিজনে’ তা বাজারে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু হিমঘরে টম্যাটো সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা কার্যত নেই। রাজ্যের হিমঘর মালিকদের সংগঠনের কর্তা পতিতপাবন দে জানিয়েছেন, কোনও হিমঘরে টম্যাটো সংরক্ষণ করা হয়, এরকম কিছু তাঁর জানা নেই। যে হিমঘরগুলিতে আলু সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে টম্যাটো রাখা যায় না। বিভিন্ন ধরনের সব্জি, ফল রাখার জন্য যে কয়েকটি বহুমুখী হিমঘর আছে, সেখানেও টম্যাটো রাখার সুযোগ বিশেষ  নেই। এই পরিস্থিতিতে টম্যাটোর বাম্পার ফলন হলে তা চাষিরা অনেক সময় জলের দরে বিক্রি করে দিতে বা রাস্তায় ফেলে দিতে   বাধ্য হন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ