


সংবাদদাতা, কল্যাণী: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর টোল আদায় নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। নদীয়া জেলার কল্যাণী ও হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়ার সঙ্গে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর টোল আদায় বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই প্রশ্নে সরব হয়েছেন অনেকে। যদিও প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই সেখানে সম্পূর্ণ বৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আচমকাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর টোল আদায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একদিন পর থেকে ফের চালু হয় টোল আদায়। সেতুতে ফাটল ধরা পড়ায় বহু দিন আগে থেকে সেখানে ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ছোটো গাড়ি এবং হালকা পণ্যবাহী যান চলাচল করে এই ভগ্নপ্রায় সেতু দিয়ে। এতদিন ছোটো গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ টাকা এবং ছোটো পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে ১৫ টাকা টোল নেওয়া হত। গত শনিবার থেকে সব ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রেই ১৫ টাকা করে টোল আদায় শুরু হয়েছে বলে দাবি চালক ও সাধারণ যাত্রীদের। অর্থাৎ, ছোটো গাড়ির ক্ষেত্র ৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই বৃদ্ধির কারণ কী? এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি প্রশাসনের তরফে। প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায়নি সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, নতুন করে চুক্তি হলে টোল বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকেই। সূত্রের খবর, বেশ কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি এজেন্সি এই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে। তিনটি শিফটে প্রায় ১২০ জন কর্মী সেখানে কাজ করেন। চুক্তি অনুযায়ী ওই এজেন্সিকে প্রতিদিন প্রায় ৫৯ হাজার ১১১ টাকা সরকারকে জমা দিতে হয়। ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ওই এজেন্সির। এদিকে পুরানো সেতুর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন সেতু তৈরির কাজ চলাকালীন পুরানো সেতুর টোল কাঠামোতে এই পরিবর্তনের কারণ কী? আপাতত প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে আম জনতা। -নিজস্ব চিত্র