Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অপরাধ দমনে কঠোর পুলিশ, নদীয়ায় এবার হল পৃথক রেঞ্জ

পুলিশ জেলা হিসাবে নদীয়াকে দু’ভাগ করা হয়েছিল আগেই। এবার অপরাধ দমনে আরও কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা গড়তে পৃথক রেঞ্জ হল নদীয়ায়।

অপরাধ দমনে কঠোর পুলিশ, নদীয়ায় এবার হল পৃথক রেঞ্জ
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পুলিশ জেলা হিসাবে নদীয়াকে দু’ভাগ করা হয়েছিল আগেই। এবার অপরাধ দমনে আরও কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা গড়তে পৃথক রেঞ্জ হল নদীয়ায়। কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পুলিশ জেলায় বিভক্ত নদীয়াকে নিয়ে তৈরি হল ‘নদীয়া-রানাঘাট রেঞ্জ’। আগে এই পুলিশ জেলাদু’টি ছিল মুর্শিদাবাদ পুলিশ রেঞ্জের অধীনে। একইভাবে মুর্শিদাবাদের দু’টি পুলিশ জেলা নিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ রেঞ্জকে। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে পুলিশের শীর্ষপদে একাধিক রদবদলের মাঝেই সূক্ষ্মভাবে মুর্শিদাবাদ পুলিশ রেঞ্জকে ভেঙে ফেলা হয় দু’টি ভাগে। তবে এতেও কী সীমান্ত লাগোয়া নদীয়ার সামগ্রিক অপরাধ দমন সম্ভব হবে? প্রশ্ন থাকছেই।

Advertisement

২০১৯ সালে নদীয়াকে দু’টি পুলিশ জেলায় ভেঙে ফেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর মধ্যে উত্তর অংশের নাম দেওয়া হয় কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা এবং দক্ষিণ অংশের নাম হয় রানাঘাট পুলিশ জেলা। পরবর্তীতে পুলিশ জেলা ধরে নদীয়াকেও দু’ভাগে ভাগ করার জল্পনা তৈরি হলেও তা বিশেষ কল্কে পায়নি। এমতাবস্থায় এতদিন নদীয়ার এই দু’টি পুলিশ জেলা এবং মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলাকে সম্মিলিতভাবে ধরা হত মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ। যার শেষ ডিআইজি ছিলেন সৈয়দ ওয়াকার রাজা। কিন্তু গত বছর কখনও ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে তো কখনও অনান্য ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের একের পর এক অশান্তি ও হিংসার ঘটনা ঘটে। এভাবে অধিকাংশ কাঁটাতারহীন নদীয়া জেলায় পুলিশের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনুপ্রবেশ। বিশেষত, রানাঘাট পুলিশ জেলার হাঁসখালি ও ধানতলা থানা এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে লাগাতার অনুপ্রবেশের হাতে গরম প্রমাণ মিলেছে পুলিশি অভিযানে। গত দেড় বছরে বেশ কয়েকশো অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তারও হয়েছে। একই সমস্যা কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক নিয়েও। ফলে উভয় জেলাতেই বাড়তে থাকা অপরাধের গ্রাফে রাশ টানতে অত্যন্ত সুচারুভাবে নদীয়া-মুর্শিদাবাদ পুলিশ রেঞ্জকে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

সম্প্রতি পুলিশের শীর্ষ পদে একাধিক রদবদলের তালিকায় দেখা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর ও রানাঘাটকে ‘নদীয়া-রানাঘাট পুলিশ রেঞ্জ’ নাম দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পৃথক ডিআইজি-কে। অবশ্য সদ্য প্রাক্তন মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দাক ওয়াকার রাজার উপরেই আস্থা রাখা হয়েছে এই নবগঠিত রেঞ্জের জন্য। আর জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত আইপিএস মুকেশ-কে। তিনি এতদিন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদে ছিলেন। এবার ইন্সপেক্টর জেনারেল র‍্যাঙ্কের এই দাপুটে অফিসারকে দিয়েই অশান্ত মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ